ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গ্রাহক হয়রানি রুখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অ্যাকশন

মিরপুর বিআরটিএ-তে অভিযান, ৪ দালালের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর) কার্যালয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান। অভিযানে বিআরটিএ চত্বর থেকে হাতেনাতে আটক হওয়া প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর দুই সদস্যকে নগদ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযান চলাকালেই চত্বর থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় দালালচক্রের আরও বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য।

 

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আশরাফুল ইসলাম বাবু (২২), মো. আকতার সরদার, মো. তুহিন (৩৪) এবং মো. রিপন (২৮)। আটক করার পর এই ব্যক্তিরা বিআরটিএ চত্বরেই আদালতের কাছে নিজেদের অপরাধ ও জালিয়াতির কথা সম্পূর্ণ স্বীকার করেন। এরপর তাঁদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে দুজনকে এক মাস এবং অন্য দুজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বাকি দুই দালালকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

 

 

আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, এই দালালচক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের টার্গেট করে আসছিল। লাইসেন্স বা ফাইল দ্রুত পাশ করিয়ে দেওয়ার লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের মূল নথিপত্র ও টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।

 

 

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “বিআরটিএ অফিসে আগত দূর-দূরান্তের সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ ও আর্থিক প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এই দালালচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষ ঝটিকা ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।” বিআরটিএ-কে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

গ্রাহক হয়রানি রুখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অ্যাকশন

মিরপুর বিআরটিএ-তে অভিযান, ৪ দালালের কারাদণ্ড

Update Time : ১১:০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর) কার্যালয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান। অভিযানে বিআরটিএ চত্বর থেকে হাতেনাতে আটক হওয়া প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর দুই সদস্যকে নগদ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযান চলাকালেই চত্বর থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় দালালচক্রের আরও বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য।

 

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আশরাফুল ইসলাম বাবু (২২), মো. আকতার সরদার, মো. তুহিন (৩৪) এবং মো. রিপন (২৮)। আটক করার পর এই ব্যক্তিরা বিআরটিএ চত্বরেই আদালতের কাছে নিজেদের অপরাধ ও জালিয়াতির কথা সম্পূর্ণ স্বীকার করেন। এরপর তাঁদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে দুজনকে এক মাস এবং অন্য দুজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বাকি দুই দালালকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

 

 

আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, এই দালালচক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের টার্গেট করে আসছিল। লাইসেন্স বা ফাইল দ্রুত পাশ করিয়ে দেওয়ার লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের মূল নথিপত্র ও টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।

 

 

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “বিআরটিএ অফিসে আগত দূর-দূরান্তের সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ ও আর্থিক প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এই দালালচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষ ঝটিকা ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।” বিআরটিএ-কে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।