ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উৎসবের আবহ শেষ হতে না হতেই দেশের সড়ক–মহাসড়কগুলোতে মেতে উঠেছে মৃত্যুর উৎসব। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবং ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে গত ছয় দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু করে আজ রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত দেশের অন্তত ১৮টি জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৯০ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে গোপালগঞ্জে। গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন দুপুরে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের বেদগ্রাম এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পিরোজপুরের মো. সোহাগ, তার স্ত্রী খাদিজা ও ছয় বছরের শিশু সন্তান আরমান রয়েছেন। এছাড়া নেত্রকোনায় গত কয়েক দিনে দুই তরুণসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে আজ রোববারই শহরের চল্লিশা বাইপাস এলাকায় বাসের চাপায় অটোরিকশার তিন নারী যাত্রী প্রাণ হারান।
ফরিদপুরের মধুখালীতে ঈদের দিন বিকেলে পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে রাজন ও ইব্রাহিম নামে দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এছাড়া একই জেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের আলালপুরে গত শনিবার সকালে পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার আড়াই বছরের শিশু পুত্র রুহান ঘটনাস্থলেই মারা যান।
মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি ও মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে এবার তরুণদের প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদীর শিবপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণ, পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই চাচাতো ভাই এবং চট্টগ্রামের রাউজানে বেড়াতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণের প্রাণ গেছে। সাতক্ষীরার তালায় পিকআপ–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুজন এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে প্রাইভেটকার–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন।
এছাড়াও নাটোর, নড়াইল, জামালপুর, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, পাবনা, রাজবাড়ী, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া ও কিশোরগঞ্জে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাকিদের মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আজ সকালে রাস্তা পারাপারের সময় বাসচাপায় মরিয়ম আক্তার নামে ছয় বছরের এক প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যু হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং মহাসড়কে নিষিদ্ধ ও ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচলই এই লাগামহীন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














