ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে রাডার ও সামরিক স্থাপনায় মার্কিন আঘাত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করে একেআত্মরক্ষামূলক হামলাবলে দাবি করেছে। ইরানের গোড়ুক শহর এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই জোরালো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যাধুনিকএমকিউড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে এই পাল্টা সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, তাদের বিশেষ বাহিনী ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি ড্রোন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি একমুখী আক্রমণাত্মক (কামিকাজে) ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন সামরিক প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া ওই ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর জন্যস্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক হুমকিতৈরি করছিল।

 

সেন্টকম আরও উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইরানের সাম্প্রতিকআগ্রাসী পদক্ষেপেরসুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক জবাবেই এই বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই সামরিক আঘাত এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি জানানো হয়নি। তেহরানের এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় ও থমথমে করে তুলেছে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান বৈরিতা এই ঘটনার ফলে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় রূপ নিয়েছে। ড্রোন যুদ্ধ এবং পাল্টা বিমান হামলার এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে কেশম দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন এই সামরিক আগ্রাসন যেকোনো মুহূর্তে ওই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

সূত্র: আল জাজিরা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে রাডার ও সামরিক স্থাপনায় মার্কিন আঘাত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ

Update Time : ১১:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করে একেআত্মরক্ষামূলক হামলাবলে দাবি করেছে। ইরানের গোড়ুক শহর এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই জোরালো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যাধুনিকএমকিউড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে এই পাল্টা সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, তাদের বিশেষ বাহিনী ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি ড্রোন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি একমুখী আক্রমণাত্মক (কামিকাজে) ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন সামরিক প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া ওই ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর জন্যস্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক হুমকিতৈরি করছিল।

 

সেন্টকম আরও উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইরানের সাম্প্রতিকআগ্রাসী পদক্ষেপেরসুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক জবাবেই এই বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই সামরিক আঘাত এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি জানানো হয়নি। তেহরানের এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় ও থমথমে করে তুলেছে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান বৈরিতা এই ঘটনার ফলে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় রূপ নিয়েছে। ড্রোন যুদ্ধ এবং পাল্টা বিমান হামলার এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে কেশম দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন এই সামরিক আগ্রাসন যেকোনো মুহূর্তে ওই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

সূত্র: আল জাজিরা