ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান আলোচনা কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি ছাড়াই থমকে গেছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-কে এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলাকে কেন্দ্র করে এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা আগের ৪২ দিনের সংঘাতের চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী ও তীব্র হবে। এবারের সম্ভাব্য হামলায় ইরানের প্রধান সামরিক ঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে মূল টার্গেট করা হবে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান লাইফলাইন বা অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘খার্গ দ্বীপ’ পুরোপুরি দখল করার একটি গোপন ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে পেন্টাগন। এই দ্বীপটি হাতছাড়া হলে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
পরিকল্পনার এখানেই শেষ নয়; মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এবার ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে তেহরানের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসার একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানও পরিচালনা করা হতে পারে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের মাটির নিচে সুসংরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। এই অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে এবং কমান্ডোদের ব্যাকআপ বা সহায়তাকারী দল হিসেবে সেখানে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন রাখতে হবে, যাদের সঙ্গে ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সরাসরি ও রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি লড়াই অবধারিত।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল–১২’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ যে কোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে—এমনটি ধরে নিয়েই ইসরায়েল তার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। ইসরায়েল এখন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত গ্রিন সিগন্যাল বা সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমেরিকানরা অবশেষে বুঝতে পেরেছে যে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে কোনো সমাধান আসবে না। আমরা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।”
তবে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই কিছুটা নমনীয়তার সুরও দেখা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে। গত শুক্রবার চীন সফর থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরান যদি লিখিতভাবে এবং সত্যিকার অর্থে প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন শর্ত দিয়েছিল যে ইরানকে ‘চিরজীবনের জন্য’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। ট্রাম্পের এই শর্ত কিছুটা শিথিল করার প্রস্তাবের পর তেহরান কীভাবে সাড়া দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ মেঘ কাটে কি না, তা–ই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













