সংগৃহীত ছবি
তামিলনাড়ু রাজনীতিতে এক চমকপ্রদ নাম এস কীর্তনা। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হিসেবে রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। বিরুধুনগর জেলার শিবকাশী আসন থেকে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী অশোকান জি-কে ১১ হাজার ৬৭০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এখন টিভিকে-র অন্যতম প্রভাবশালী মুখ।
মেধার মিশেল ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার কীর্তনার বেড়ে ওঠা আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতোই। তামিল মিডিয়াম সরকারি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক এবং ২০১৯ সালে পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাশিবিদ্যায় (Statistics) স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তবে বইখাতার গণিত তাকে টেনে নিয়ে যায় রাজনীতির জটিল পাটিগণিতে। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি ভারতের নামী রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘শোটাই’ ও ‘আই-প্যাকে’ কাজ করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং এমনকি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়েও ভোটকুশলী হিসেবে পর্দার আড়ালে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
ভোটকুশলী থেকে জননেত্রী রবিবার (১০ মে) শপথ নেওয়ার আগে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কীর্তনা বলেন, “আমি সবসময়ই রাজনীতিতে আসতে চেয়েছি। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম একজন ভোটকুশলী হিসেবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কাজ করার ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আমলাতন্ত্র কীভাবে পরিচালিত হয়, তা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার।” অনর্গল পাঁচটি ভাষায় কথা বলতে পারার দক্ষতাকে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে মনে করেন।
কেন বেছে নিলেন টিভিকে? তৃণমূল বা ডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলে না গিয়ে কেন বিজয়ের নতুন দলে যোগ দিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কীর্তনা জানান, টিভিকে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে। তাঁর মতে, “আমার যদি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা কাড়ি কাড়ি টাকা না-ও থাকত, তবুও আমি এই দলে কাজ করতে পারতাম। মানুষের জন্য কাজ করার প্রকৃত বিশ্বাসযোগ্যতা আমি বিজয়ের দর্শনেই পেয়েছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কীর্তনার মতো শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ তরুণদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে থালাপতি বিজয় এক আধুনিক ও মেধাসম্পন্ন তামিলনাড়ু গড়ার ইঙ্গিত দিলেন। আজ শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো এস কীর্তনার এক নতুন রাজনৈতিক ইনিংস।

অনলাইন ডেস্ক 













