সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে অর্থাৎ ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ বা ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে একটি সংশোধিত মানচিত্র শেয়ার করেছেন তিনি। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কোনো ক্যাপশন ছাড়াই এই মানচিত্রের ছবিটি পোস্ট করেন। মূলত ‘আইস্ট্যান্ডউইথট্রাম্প৪৭’ নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি প্রথম পোস্ট করা হয়েছিল, যা পরে ট্রাম্প নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করেন। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত একটি নামের এমন পরিবর্তন কূটনৈতিক মহলে হাস্যরস ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়ে থাকে।
তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই নামের ব্যবহার এবারই প্রথম নয়। গত ২৭ মার্চ মিয়ামিতে আয়োজিত এক বিনিয়োগ ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় ইরান ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে তিনি ‘ট্রাম্প প্রণালি’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। যদিও সেই সময় তিনি দ্রুত নিজেকে সংশোধন করে ‘হরমুজ’ বলেন এবং আগের মন্তব্যটিকে ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি মানচিত্র শেয়ার করায় অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো নিছক ভুল নয় বরং তাঁর একরোখা আধিপত্যবাদী নীতিরই প্রতিফলন।
ট্রাম্পের এই পোস্ট এমন এক সময়ে সামনে এল যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধের খবর চাউর হয়েছে। এই অবরোধ কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই অর্থনৈতিক চাপ কেবল সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপরই প্রভাব ফেলছে না, বরং ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও বড় ধরনের অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এমন আচরণের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। তেহরান হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা আলোচনার দ্বারও খোলা রেখেছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় এবং গঠনমূলক আলোচনায় বসে, তবেই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার অভিযোগ করেছেন, এই নৌ অবরোধের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে দেশটিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেওয়া। ট্রাম্পের এমন ‘নাম পরিবর্তন’ সেই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।















