ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডিএনএ গবেষণার কিংবদন্তি বিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটল সান দিয়াগোতে

ডিএনএর রহস্য উন্মোচনকারী বিজ্ঞানী ক্রেগ ভেন্টার আর নেই

সংগৃহীত ছবি

 

মানবদেহের ব্লুপ্রিন্ট বা জিনোম রহস্য উন্মোচনের অন্যতম পথিকৃৎ, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা জে. ক্রেগ ভেন্টার চিরবিদায় নিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়াগো শহরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তাঁর প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘জে. ক্রেগ ভেন্টার ইনস্টিটিউট’ এই বরেণ্য বিজ্ঞানীর প্রয়াণের সংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

 

 

এক শোকবার্তায় গবেষণা সংস্থাটি জানায়, জে. ক্রেগ ভেন্টার ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি এই মরণব্যাধির চিকিৎসাজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণে বিশ্ব বিজ্ঞান সমাজে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

 

 

১৯৯০-এর দশকে যখন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা মানুষের ডিএনএ বিন্যাস বা জিনোম ডিকোড করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, তখন জে. ক্রেগ ভেন্টার এক বৈপ্লবিক ও সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। সে সময় সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ‘হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট’ যখন বিশাল বাজেট ও দীর্ঘ সময়ের জটিলতায় ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, তখন ভেন্টার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দ্রুততর পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজস্ব গবেষণার ঘোষণা দেন। তাঁর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কৌশলী উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে কয়েক বছর এগিয়ে দেয়।

 

 

জিনোম মূলত মানুষের কোষে অবস্থিত ডিএনএর মধ্যে থাকা ক্রোমোজোমের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস, যা আমাদের শারীরিক গঠন ও জৈবিক কার্যক্রমের যাবতীয় নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। ২০০০ সালে ভেন্টারের নেতৃত্বাধীন কোম্পানি ‘সেলেরা’ একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারি গোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথভাবে ঘোষণা করে যে, তারা প্রথম সফলভাবে মানব জিনোম একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্জনটি মানুষের বিভিন্ন জটিল রোগ এবং তার উৎপত্তির জিনগত ভিত্তি খুঁজে বের করার পথে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।

 

 

ভেন্টারের কৃতিত্ব কেবল মানব জিনোমে সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রথম কোনো প্রাণসত্তা হিসেবে ‘হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি’ নামক ব্যাকটেরিয়ার সম্পূর্ণ জিনোম উন্মোচন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম ডিকোড করা ব্যাকটেরিয়াল জিনোম। তাঁর গবেষণা দলে নোবেলজয়ী অণুজীববিজ্ঞানী হ্যামিল্টন ও. স্মিথসহ অসাধারণ সব মেধাবী বিজ্ঞানীরা যুক্ত ছিলেন।

 

 

অসামান্য এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে তিনি ‘নিয়েরেনবার্গ পুরস্কার’ লাভ করেন। ২০০৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে বিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ প্রদান করেন। জে. ক্রেগ ভেন্টারের প্রয়াণ বিজ্ঞানের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটাল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ডিএনএ গবেষণার কিংবদন্তি বিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটল সান দিয়াগোতে

ডিএনএর রহস্য উন্মোচনকারী বিজ্ঞানী ক্রেগ ভেন্টার আর নেই

Update Time : ০৭:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

মানবদেহের ব্লুপ্রিন্ট বা জিনোম রহস্য উন্মোচনের অন্যতম পথিকৃৎ, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা জে. ক্রেগ ভেন্টার চিরবিদায় নিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়াগো শহরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তাঁর প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘জে. ক্রেগ ভেন্টার ইনস্টিটিউট’ এই বরেণ্য বিজ্ঞানীর প্রয়াণের সংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

 

 

এক শোকবার্তায় গবেষণা সংস্থাটি জানায়, জে. ক্রেগ ভেন্টার ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি এই মরণব্যাধির চিকিৎসাজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রয়াণে বিশ্ব বিজ্ঞান সমাজে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

 

 

১৯৯০-এর দশকে যখন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা মানুষের ডিএনএ বিন্যাস বা জিনোম ডিকোড করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, তখন জে. ক্রেগ ভেন্টার এক বৈপ্লবিক ও সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। সে সময় সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ‘হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট’ যখন বিশাল বাজেট ও দীর্ঘ সময়ের জটিলতায় ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, তখন ভেন্টার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দ্রুততর পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজস্ব গবেষণার ঘোষণা দেন। তাঁর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কৌশলী উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে কয়েক বছর এগিয়ে দেয়।

 

 

জিনোম মূলত মানুষের কোষে অবস্থিত ডিএনএর মধ্যে থাকা ক্রোমোজোমের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস, যা আমাদের শারীরিক গঠন ও জৈবিক কার্যক্রমের যাবতীয় নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। ২০০০ সালে ভেন্টারের নেতৃত্বাধীন কোম্পানি ‘সেলেরা’ একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারি গোষ্ঠীর সঙ্গে যৌথভাবে ঘোষণা করে যে, তারা প্রথম সফলভাবে মানব জিনোম একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্জনটি মানুষের বিভিন্ন জটিল রোগ এবং তার উৎপত্তির জিনগত ভিত্তি খুঁজে বের করার পথে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।

 

 

ভেন্টারের কৃতিত্ব কেবল মানব জিনোমে সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রথম কোনো প্রাণসত্তা হিসেবে ‘হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি’ নামক ব্যাকটেরিয়ার সম্পূর্ণ জিনোম উন্মোচন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম ডিকোড করা ব্যাকটেরিয়াল জিনোম। তাঁর গবেষণা দলে নোবেলজয়ী অণুজীববিজ্ঞানী হ্যামিল্টন ও. স্মিথসহ অসাধারণ সব মেধাবী বিজ্ঞানীরা যুক্ত ছিলেন।

 

 

অসামান্য এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে তিনি ‘নিয়েরেনবার্গ পুরস্কার’ লাভ করেন। ২০০৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে বিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ প্রদান করেন। জে. ক্রেগ ভেন্টারের প্রয়াণ বিজ্ঞানের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটাল।