ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতি পেলেন রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসায় লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি: ৯ মে ঢাকা ত্যাগের প্রস্তুতি

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ৯ মে লন্ডনের উদ্দেশে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র আজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর।

 

 

সূত্রমতে, ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সফরে সঙ্গী হিসেবে থাকছেন তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা। এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রয়েছে, যেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও অন্তর্ভুক্ত আছেন। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১৭ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা বেশ সংবেদনশীল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার একটি জটিল কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অন্তর তার ফলোআপ চেকআপ এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর তার বিদেশ সফর নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

 

 

এর আগে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শাসনামলে তাকে চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তার বাইপাস সার্জারির ফলোআপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরাসরি নিষেধ করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল যে, প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা হবে, তবুও তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না।

 

 

শুধু সিঙ্গাপুর নয়, লন্ডনের কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি যেতে পারেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি দাবি করেছিলেন, তাকে কার্যত বঙ্গভবনে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। এমনকি দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় প্রথা ভেঙে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। দীর্ঘ সময় পর সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাচ্ছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির এই সফরটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতি পেলেন রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসায় লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি: ৯ মে ঢাকা ত্যাগের প্রস্তুতি

Update Time : ০৭:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ৯ মে লন্ডনের উদ্দেশে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র আজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর।

 

 

সূত্রমতে, ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সফরে সঙ্গী হিসেবে থাকছেন তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা। এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রয়েছে, যেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও অন্তর্ভুক্ত আছেন। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১৭ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা বেশ সংবেদনশীল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার একটি জটিল কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অন্তর তার ফলোআপ চেকআপ এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর তার বিদেশ সফর নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

 

 

এর আগে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শাসনামলে তাকে চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তার বাইপাস সার্জারির ফলোআপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরাসরি নিষেধ করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল যে, প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা হবে, তবুও তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না।

 

 

শুধু সিঙ্গাপুর নয়, লন্ডনের কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি যেতে পারেননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি দাবি করেছিলেন, তাকে কার্যত বঙ্গভবনে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। এমনকি দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় প্রথা ভেঙে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। দীর্ঘ সময় পর সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাচ্ছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির এই সফরটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলেও বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।