ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা; টার্গেট ৩৫

ইরানকে আর্থিক সহায়তার অভিযোগ, ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং দেশটির অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের তথাকথিতছায়া ব্যাংকিংব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং সামরিক বাহিনীকে অর্থ সরবরাহে সহযোগিতা করার অভিযোগে ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

মার্কিন ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর মন্ত্রণালয়েরবিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ’ (OFAC) এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক কোন দেশের নাগরিক বা কোন দেশে অবস্থিত, তা ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বা মন্ত্রীর এক্সবার্তায় পরিষ্কার করা হয়নি। এই গোপনীয়তা কৌশলগত কারণে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের ওপর আগে থেকেই কঠোর তেল নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তেহরান একটি জটিল ও গোপনছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। এই ব্যবস্থায় কিছু দেশিবিদেশি মধ্যস্থতাকারী বাতৃতীয় পক্ষহিসেবে কাজ করে। তারা বৈশ্বিক গ্রাহকদের কাছে ইরানের তেল পৌঁছে দেয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখে। পরবর্তীতে অত্যন্ত গোপনে এই অর্থ ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আইআরজিসির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের দাবি, গতকালের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ৩৫টি পক্ষ মূলত এই অর্থ পাচার ও লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ কারিগর।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানযুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যুদ্ধ এই সংঘাতকে আরও চরম রূপ দিয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করতে হলে তাদের তেল বাণিজ্যের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ এপ্রিল ইরানের সব কটি বন্দরে আনুষ্ঠানিক অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই বন্দর অবরোধ এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বড় ধরণের চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে আইআরজিসি, যারা সরাসরি ইরানের তেল বাণিজ্য ও বিপণন দেখভাল করে, তাদের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইরান বরাবরই এসব নিষেধাজ্ঞাকেঅর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদহিসেবে অভিহিত করে আসছে এবং নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে।

 

সূত্র : রয়টার্স

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা; টার্গেট ৩৫

ইরানকে আর্থিক সহায়তার অভিযোগ, ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ১০:১৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং দেশটির অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের তথাকথিতছায়া ব্যাংকিংব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং সামরিক বাহিনীকে অর্থ সরবরাহে সহযোগিতা করার অভিযোগে ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

মার্কিন ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর মন্ত্রণালয়েরবিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ’ (OFAC) এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক কোন দেশের নাগরিক বা কোন দেশে অবস্থিত, তা ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বা মন্ত্রীর এক্সবার্তায় পরিষ্কার করা হয়নি। এই গোপনীয়তা কৌশলগত কারণে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের ওপর আগে থেকেই কঠোর তেল নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তেহরান একটি জটিল ও গোপনছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। এই ব্যবস্থায় কিছু দেশিবিদেশি মধ্যস্থতাকারী বাতৃতীয় পক্ষহিসেবে কাজ করে। তারা বৈশ্বিক গ্রাহকদের কাছে ইরানের তেল পৌঁছে দেয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখে। পরবর্তীতে অত্যন্ত গোপনে এই অর্থ ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আইআরজিসির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের দাবি, গতকালের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ৩৫টি পক্ষ মূলত এই অর্থ পাচার ও লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ কারিগর।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানযুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যুদ্ধ এই সংঘাতকে আরও চরম রূপ দিয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করতে হলে তাদের তেল বাণিজ্যের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ এপ্রিল ইরানের সব কটি বন্দরে আনুষ্ঠানিক অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই বন্দর অবরোধ এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বড় ধরণের চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে আইআরজিসি, যারা সরাসরি ইরানের তেল বাণিজ্য ও বিপণন দেখভাল করে, তাদের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইরান বরাবরই এসব নিষেধাজ্ঞাকেঅর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদহিসেবে অভিহিত করে আসছে এবং নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে।

 

সূত্র : রয়টার্স