জলাবদ্ধতায় পরীক্ষার হলে বসার বেঞ্চে পা তুলে লিখেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লা ঈশ্বর পাঠশালা (উচ্চবিদ্যালয়) কেন্দ্রে | ছবি: আবদুর রহমান
মঙ্গলবার সকালের মাত্র দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লা মহানগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা ফুটে উঠেছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিপরীত পাশে অবস্থিত কুমিল্লা ঈশ্বর পাঠশালা (উচ্চবিদ্যালয়) কেন্দ্রে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার এই কেন্দ্রটিতে নালার নোংরা পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে পরীক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে ঈশ্বর পাঠশালার পুরো আঙিনা প্লাবিত হয়। একপর্যায়ে পানি পরীক্ষার হলের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাশের পুরোনো একতলা টিনশেড ভবনটির অবস্থা ছিল শোচনীয়।
সেখানে দেখা গেছে, বেঞ্চের নিচ দিয়ে নালার ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে, আর তার মধ্যেই নিরুপায় হয়ে বসার বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শুধু পরীক্ষার্থীই নয়, দায়িত্বরত হল পর্যবেক্ষক ও শিক্ষকরাও প্লাস্টিকের চেয়ারে পা তুলে কোনোমতে সময় পার করেছেন।
পরীক্ষা শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক শিক্ষার্থী জানায়, “পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই হলে নোংরা পানি ঢুকতে শুরু করে। জুতা-প্যান্ট ভিজে একাকার হয়ে গেছে। এত বাজে পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়া যায় না।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুধাংশু কুমার মজুমদার জানান, এই কেন্দ্রে মোট ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো বিরতি দেওয়া হয়নি। তবে নালার ময়লা পানির মধ্যে দীর্ঘ সময় বসে থাকা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
এদিকে জলাবদ্ধতার বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু) জানান, নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে নালা ও খাল পরিষ্কারের কাজ চলছে। তাঁর দাবি, ড্রেনের পাশে রাখা নির্মাণসামগ্রী বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নালায় পড়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি দুটি বিশেষ টিম কাজ করছে। আগামী বর্ষার আগে পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিলেও, আজকের এই চরম অব্যবস্থাপনার দায় এড়াতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নগরবাসীর দাবি, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকির অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতে কুমিল্লা এখন ‘ডুবন্ত নগরী’তে পরিণত হয়েছে।

















