ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কালান্দিয়া শিবিরে সামরিক চৌকি স্থাপন; বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে আতঙ্ক

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: ঘরবাড়ি দখল ও গণগ্রেপ্তার

ছবি: রয়টার্স

 

অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবারও সামরিক আগ্রাসনের তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই পশ্চিম তীরের একাধিক শহর ও শরণার্থী শিবিরে আকস্মিক এই অভিযান শুরু হয়।

 

 

অভিযানে ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক ব্যারাকে রূপান্তর করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই অভিযানে সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর অমানবিক কায়দায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা ঘটেছে।

 

 

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনারা একের পর এক বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে।

 

সেখানকার বাসিন্দাদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর অন্তত কয়েকটি বাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক চৌকি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে সেনারা। সেখানে কেবল ফিলিস্তিনিদের আটকই রাখা হয়নি, বরং অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

 

 

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (Wafa) জানিয়েছে, অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল প্রাক্তন বন্দি আশরাফ আম্মারের বাড়ি। তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজে না পেয়ে তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, ছেলেকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতেই পিতাকে জিম্মি করার এই কৌশল অবলম্বন করেছে দখলদার বাহিনী। শুধু সেনাবাহিনীই নয়, বেইত সাহুর সংলগ্ন জাবাল হারাসা এলাকায় কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

 

 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামাল্লাহর উত্তরে সারদা শহরেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সেখানে প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনারা। সব মিলিয়ে একদিনের মধ্যেই পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে, যেখানে বেসামরিক জনগণের ঘরবাড়িকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

কালান্দিয়া শিবিরে সামরিক চৌকি স্থাপন; বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে আতঙ্ক

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: ঘরবাড়ি দখল ও গণগ্রেপ্তার

Update Time : ০৪:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ছবি: রয়টার্স

 

অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবারও সামরিক আগ্রাসনের তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই পশ্চিম তীরের একাধিক শহর ও শরণার্থী শিবিরে আকস্মিক এই অভিযান শুরু হয়।

 

 

অভিযানে ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক ব্যারাকে রূপান্তর করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই অভিযানে সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর অমানবিক কায়দায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা ঘটেছে।

 

 

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনারা একের পর এক বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে।

 

সেখানকার বাসিন্দাদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর অন্তত কয়েকটি বাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক চৌকি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে সেনারা। সেখানে কেবল ফিলিস্তিনিদের আটকই রাখা হয়নি, বরং অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

 

 

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (Wafa) জানিয়েছে, অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল প্রাক্তন বন্দি আশরাফ আম্মারের বাড়ি। তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজে না পেয়ে তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, ছেলেকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতেই পিতাকে জিম্মি করার এই কৌশল অবলম্বন করেছে দখলদার বাহিনী। শুধু সেনাবাহিনীই নয়, বেইত সাহুর সংলগ্ন জাবাল হারাসা এলাকায় কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

 

 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামাল্লাহর উত্তরে সারদা শহরেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সেখানে প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে সাধারণ যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনারা। সব মিলিয়ে একদিনের মধ্যেই পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে, যেখানে বেসামরিক জনগণের ঘরবাড়িকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।