ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাঁড়ে চার দশক পর ওয়াশিংটনে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

একই স্থানে রিগ্যান ও ট্রাম্প: হিলটন কি অভিশপ্ত?

ছবি : রয়টার্স

 

ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কানেকটিকাট অ্যাভিনিউয়ের হিলটন হোটেলটি দেশটির প্রেসিডেন্টদের জন্য এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পরিণত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজ সাংবাদিক সমিতির নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে যে স্থানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, ঠিক একই স্থানে ৪৫ বছর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানও প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন। ইতিহাসের এই অদ্ভুত ও ভয়ংকর পুনরাবৃত্তি নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

 

ইতিহাসের সেই কালো দিন: ১৯৮১

 

১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ। হিলটন হোটেলে এক বক্তৃতা শেষে নিজের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন ৪০তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। ঠিক সেই মুহূর্তে জন হিঙ্কলি জুনিয়র নামের এক হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি লিমুজিনে লেগে ছিটকে রিগ্যানের পাঁজরে বিঁধে ফুসফুসে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সে যাত্রায় বেঁচে ফেরেন তিনি। ওই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে হোটেলটি ‘রিগ্যান হোটেল’ নামে পরিচিতি পায়। সেই হামলায় তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডি আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন।

 

২০২৬: আবারও হামলার মুখে ট্রাম্প

সাঁড়ে চার দশক পর সেই একই হোটেলের দরজায় আবারও চলল গুলি। শনিবার রাতে সাংবাদিক সমিতির নৈশভোজ চলাকালীন ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন নামক এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এফবিআই সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী একটি শটগান থেকে সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে ওই এজেন্ট বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় বড় কোনো বিপদ ঘটেনি।

 

 

নিরাপদ রয়েছেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া

গুলির শব্দ শোনা মাত্রই সিক্রেট সার্ভিস অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলাকারী অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। তাকে আটকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে হামলাকারীকে ‘অসুস্থ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সাঁড়ে চার দশক পর ওয়াশিংটনে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

একই স্থানে রিগ্যান ও ট্রাম্প: হিলটন কি অভিশপ্ত?

Update Time : ০৮:০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কানেকটিকাট অ্যাভিনিউয়ের হিলটন হোটেলটি দেশটির প্রেসিডেন্টদের জন্য এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পরিণত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজ সাংবাদিক সমিতির নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে যে স্থানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, ঠিক একই স্থানে ৪৫ বছর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানও প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন। ইতিহাসের এই অদ্ভুত ও ভয়ংকর পুনরাবৃত্তি নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

 

ইতিহাসের সেই কালো দিন: ১৯৮১

 

১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ। হিলটন হোটেলে এক বক্তৃতা শেষে নিজের গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন ৪০তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। ঠিক সেই মুহূর্তে জন হিঙ্কলি জুনিয়র নামের এক হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি লিমুজিনে লেগে ছিটকে রিগ্যানের পাঁজরে বিঁধে ফুসফুসে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সে যাত্রায় বেঁচে ফেরেন তিনি। ওই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে হোটেলটি ‘রিগ্যান হোটেল’ নামে পরিচিতি পায়। সেই হামলায় তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডি আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন।

 

২০২৬: আবারও হামলার মুখে ট্রাম্প

সাঁড়ে চার দশক পর সেই একই হোটেলের দরজায় আবারও চলল গুলি। শনিবার রাতে সাংবাদিক সমিতির নৈশভোজ চলাকালীন ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন নামক এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এফবিআই সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী একটি শটগান থেকে সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে ওই এজেন্ট বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় বড় কোনো বিপদ ঘটেনি।

 

 

নিরাপদ রয়েছেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া

গুলির শব্দ শোনা মাত্রই সিক্রেট সার্ভিস অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলাকারী অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। তাকে আটকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে হামলাকারীকে ‘অসুস্থ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।