ছবি : রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখন এশিয়ার গভীর সমুদ্রে আছড়ে পড়েছে। সম্প্রতি এশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় ইরানের পতাকাবাহী অন্তত তিনটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার উপকূলসংলগ্ন এলাকা থেকে জাহাজগুলোকে তাদের পূর্বনির্ধারিত অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক শিপিং ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করার পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে অভিযান চালিয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
রয়টার্সের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একটি ইরানি কার্গো জাহাজসহ ‘ডিপ সি’ নামক একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করেছে। মালয়েশিয়া উপকূলের কাছে অবস্থানরত এই ট্যাংকারটি আংশিক তেলবোঝাই ছিল।
এ ছাড়া প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার ‘সেভিন’ নামের একটি ছোট ট্যাংকারও মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে, যার ৬৫ শতাংশই ছিল জ্বালানি তেল। ভারতের দক্ষিণ উপকূল থেকে আটক করা হয়েছে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী সুপারট্যাংকার ‘ডোরেনা’-কে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি অবরোধ ভেঙে তেল পরিবহনের চেষ্টা করলে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার সেটিকে আটকে দেয়।
পাশাপাশি ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি ট্যাংকার আটকের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ভারত তেল খালাসে অস্বীকৃতি জানানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই জাহাজটির গতিপথ বদলে দেওয়া হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত ২৯টি জাহাজকে ফিরে যেতে বা যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ভাসমান মাইন বা ইরানি নৌবাহিনীর সরাসরি হামলা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৌশল পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দুই মাস ধরে চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির মাঝে শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি না থাকায় এই নৌ-যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।















