ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সিসি ক্যামেরা ও কঠোর নীতিমালায় ভিন্ন আমেজ, প্যানিকের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

কাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, নজরদারিতে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

সংগৃহীত ছবি

 

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। সূচি অনুযায়ী, তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে এবং ৭ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের পরীক্ষা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্নতর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিশেষ তৎপরতা এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর কঠোর অবস্থানের কারণে কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, কেন্দ্র সচিবদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে যাতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

 

 

তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থান নিয়ে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান মনে করেন, অতিরিক্ত নজরদারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি বা ‘প্যানিক’ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী যেভাবে কঠোর ভাষায় কথা বলছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল হচ্ছে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করছে। সরকারের কাছে শিক্ষার চেয়ে পরীক্ষাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, সিসি ক্যামেরা ভীতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের স্বাভাবিক মনোযোগ বিঘ্নিত করতে পারে।

 

 

অন্যদিকে, একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে ‘নীরব বহিষ্কার’ নীতিটি বাতিল করা হয়েছে। যমুনা টেলিভিশনের একটি বিশেষ প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য সত্যিকারের মূল্যায়নের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা শিক্ষার স্বাভাবিক গতি রোধ করবে না।

 

 

সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরীক্ষা সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য শিক্ষকদের দক্ষ হতে হবে। শিক্ষকরা সঠিকভাবে পাঠদান করালে ছাত্রছাত্রীরাও ভালো করবে।” এবারের পরীক্ষায় পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০-এর কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগও সরকারের আধুনিক শিক্ষা ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে মন্ত্রণালয়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সিসি ক্যামেরা ও কঠোর নীতিমালায় ভিন্ন আমেজ, প্যানিকের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

কাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, নজরদারিতে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

Update Time : ০৯:১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। সূচি অনুযায়ী, তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে এবং ৭ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের পরীক্ষা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্নতর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিশেষ তৎপরতা এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর কঠোর অবস্থানের কারণে কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, কেন্দ্র সচিবদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে যাতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

 

 

তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থান নিয়ে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান মনে করেন, অতিরিক্ত নজরদারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি বা ‘প্যানিক’ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী যেভাবে কঠোর ভাষায় কথা বলছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল হচ্ছে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করছে। সরকারের কাছে শিক্ষার চেয়ে পরীক্ষাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, সিসি ক্যামেরা ভীতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের স্বাভাবিক মনোযোগ বিঘ্নিত করতে পারে।

 

 

অন্যদিকে, একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে ‘নীরব বহিষ্কার’ নীতিটি বাতিল করা হয়েছে। যমুনা টেলিভিশনের একটি বিশেষ প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য সত্যিকারের মূল্যায়নের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা শিক্ষার স্বাভাবিক গতি রোধ করবে না।

 

 

সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরীক্ষা সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য শিক্ষকদের দক্ষ হতে হবে। শিক্ষকরা সঠিকভাবে পাঠদান করালে ছাত্রছাত্রীরাও ভালো করবে।” এবারের পরীক্ষায় পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০-এর কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগও সরকারের আধুনিক শিক্ষা ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে মন্ত্রণালয়।