ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফেসবুকে নারী সেজে ব্ল্যাকমেইল ও নিয়মিত পাশবিক নির্যাতন

মিরপুরে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে ১৩ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম

রাশেদুল ইসলাম রাব্বি। ছবি : সংগৃহীত

 

রাজধানীর মিরপুর এলাকার তরুণীদের টার্গেট করে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ ও পরে ধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দাবি, রাব্বি অত্যন্ত সুকৌশলে তরুণীদের নিজের আস্তানায় নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালাতেন এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করতেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি প্রকাশ পায় ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের এক সাঁড়াশি অভিযানে।

 

 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এই বিভীষিকাময় অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকার শাহজাহান মল্লিকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি মূলত রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় একটি আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। গত মাত্র দুই মাসেই তিনি অন্তত ১৩ জন তরুণীকে একইভাবে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিটি ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

 

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে রাব্বির অপরাধের বিচিত্র সব কৌশল। উপকমিশনার জানান, রাব্বি ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রথমে একজন ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপর কৌশলে ওই ভুক্তভোগীর মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার শুরু করেন।

 

 

সেখান থেকে নারী সেজে তিনি ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের টার্গেট করতেন। গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর আকর্ষণীয় উপহার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নিতেন তিনি।

 

গোপন ওই আস্তানায় পৌঁছানোর পর রাব্বি তার আসল রূপ ধারণ করতেন। সেখানে তরুণীদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হতো এবং মোবাইলে সেই ভিডিও ধারণ করে রাখা হতো। পরবর্তীতে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক তরুণীই দীর্ঘ সময় মুখ খোলার সাহস পাননি।

 

 

শুরুতে একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে রাশেদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে ৫ জন ভিকটিমের ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর অধিকতর তদন্তে নামলে পুলিশ আরও ভয়াবহ তথ্য পায়।

 

তদন্তে আরও ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য মিলেছে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি ধারাবাহিক অপরাধ চক্রের অংশ। বর্তমানে অভিযুক্ত রাব্বির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ফেসবুকে নারী সেজে ব্ল্যাকমেইল ও নিয়মিত পাশবিক নির্যাতন

মিরপুরে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে ১৩ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার রাশেদুল ইসলাম

Update Time : ০৯:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

রাশেদুল ইসলাম রাব্বি। ছবি : সংগৃহীত

 

রাজধানীর মিরপুর এলাকার তরুণীদের টার্গেট করে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ ও পরে ধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দাবি, রাব্বি অত্যন্ত সুকৌশলে তরুণীদের নিজের আস্তানায় নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালাতেন এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করতেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি প্রকাশ পায় ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের এক সাঁড়াশি অভিযানে।

 

 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এই বিভীষিকাময় অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকার শাহজাহান মল্লিকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি মূলত রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় একটি আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। গত মাত্র দুই মাসেই তিনি অন্তত ১৩ জন তরুণীকে একইভাবে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিটি ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

 

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে রাব্বির অপরাধের বিচিত্র সব কৌশল। উপকমিশনার জানান, রাব্বি ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রথমে একজন ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপর কৌশলে ওই ভুক্তভোগীর মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার শুরু করেন।

 

 

সেখান থেকে নারী সেজে তিনি ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের টার্গেট করতেন। গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর আকর্ষণীয় উপহার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নিতেন তিনি।

 

গোপন ওই আস্তানায় পৌঁছানোর পর রাব্বি তার আসল রূপ ধারণ করতেন। সেখানে তরুণীদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হতো এবং মোবাইলে সেই ভিডিও ধারণ করে রাখা হতো। পরবর্তীতে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক তরুণীই দীর্ঘ সময় মুখ খোলার সাহস পাননি।

 

 

শুরুতে একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে রাশেদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে ৫ জন ভিকটিমের ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর অধিকতর তদন্তে নামলে পুলিশ আরও ভয়াবহ তথ্য পায়।

 

তদন্তে আরও ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য মিলেছে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি ধারাবাহিক অপরাধ চক্রের অংশ। বর্তমানে অভিযুক্ত রাব্বির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।