নববর্ষ উপলক্ষে রমনার বটমূলে ছায়ানটের গান পরিবেশন। সংগৃহীত ছবি
জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আবাহনে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানীর রমনা বটমূল। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের স্নিগ্ধ আলো যখন পুব আকাশে উঁকি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
বাঙালির জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য এই আয়োজনে ভোরের নির্মল বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ধ্রুপদী সুর, বাণী আর ছন্দের দোলা। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর প্রত্যাশায় প্রায় দুইশত শিল্পী একযোগে শামিল হয়েছেন সংস্কৃতির এই মহাসমুদ্রে।
ছায়ানট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের প্রভাতী আয়োজনে বৈচিত্র্যময় সব সুরের সমাহার ঘটানো হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে মোট ২২টি পরিবেশনা দিয়ে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি সম্মেলক গান, ১৪টি একক গান এবং ২টি কবিতা পাঠ।
নববর্ষের এই সাংস্কৃতিক ডালি পরিবেশন শেষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে মূল অনুষ্ঠানের। আয়োজকদের প্রত্যাশা—সমস্ত শঙ্কা, অনিশ্চয়তা ও ভয়ের অবসান ঘটে মানবজাতি ফিরে পাক শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণের পথ।
ভোর হওয়ার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন রমনা এলাকায়। পোশাকে ও সাজে বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্ট। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা ঢাকা থাকলেও উৎসবের আমেজে কোনো কমতি ছিল না। ছায়ানটের এই সুরের মূর্ছনা শেষ হতেই শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দকে পূর্ণতা দেবে।
















