ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা, তেল ও গ্যাস আমদানিতে নতুন রুট

তেল-গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজছে এশিয়া, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উপক্রম করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশা ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের সরকারগুলো এখন আর এই সংকটকে সাময়িক মনে করছে না; বরং একে একটি দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করছে।

 

এই প্রস্তুতির দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি ইতিমধ্যেই তাদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অপরিহার্য হিলিয়াম গ্যাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে চড়া দামে আমদানি করতে শুরু করেছে, যা আগে মধ্যপ্রাচ্যের মাধ্যমে আসত। সিউল প্রশাসন এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ওমানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে এমনভাবে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প স্থলপথ বা ভিন্ন নৌরুটের মাধ্যমে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া জরুরি সরবরাহ ঠিক রাখতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিশাল ট্যাংকার পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি তাদের অভ্যন্তরীণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দক্ষিণ কোরিয়া নয়, চীন, জাপান এবং ভারতও একই ধরণের কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। কারণ, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের ফলে এই জলপথটি যে কোনো সময় পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। বিনিয়োগকারীরাও এখন বাজারের অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ করছেন। একদিকে ট্রাম্পেরম্যাক্সিমাম প্রেশারবা সর্বোচ্চ চাপের নীতি এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাল্টা প্রতিরোধএই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে আকাশচুম্বী হওয়ার পথে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার অর্থনীতিগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমাতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের কৌশলগত রিজার্ভ (SPR) বাড়াতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর গ্যাস পাইপলাইনের দিকেও নজর বাড়াচ্ছে অনেক দেশ। যুদ্ধের দাবানল যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এশিয়ায় কেবল জ্বালানি সংকট নয়, বরং ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়তে পারে সাধারণ মানুষ। ফলে বর্তমান এই প্রস্তুতি কেবল একটি বিকল্প ব্যবস্থা নয়, বরং আধুনিক এশীয় অর্থনীতির টিকে থাকার লড়াই।

 

সূত্র: সিএনএন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা, তেল ও গ্যাস আমদানিতে নতুন রুট

তেল-গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজছে এশিয়া, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

Update Time : ১০:৪৫:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উপক্রম করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশা ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের সরকারগুলো এখন আর এই সংকটকে সাময়িক মনে করছে না; বরং একে একটি দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করছে।

 

এই প্রস্তুতির দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি ইতিমধ্যেই তাদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অপরিহার্য হিলিয়াম গ্যাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে চড়া দামে আমদানি করতে শুরু করেছে, যা আগে মধ্যপ্রাচ্যের মাধ্যমে আসত। সিউল প্রশাসন এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ওমানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে এমনভাবে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প স্থলপথ বা ভিন্ন নৌরুটের মাধ্যমে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া জরুরি সরবরাহ ঠিক রাখতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিশাল ট্যাংকার পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি তাদের অভ্যন্তরীণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু দক্ষিণ কোরিয়া নয়, চীন, জাপান এবং ভারতও একই ধরণের কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। কারণ, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের ফলে এই জলপথটি যে কোনো সময় পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। বিনিয়োগকারীরাও এখন বাজারের অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ করছেন। একদিকে ট্রাম্পেরম্যাক্সিমাম প্রেশারবা সর্বোচ্চ চাপের নীতি এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাল্টা প্রতিরোধএই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে আকাশচুম্বী হওয়ার পথে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার অর্থনীতিগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমাতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের কৌশলগত রিজার্ভ (SPR) বাড়াতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর গ্যাস পাইপলাইনের দিকেও নজর বাড়াচ্ছে অনেক দেশ। যুদ্ধের দাবানল যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এশিয়ায় কেবল জ্বালানি সংকট নয়, বরং ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়তে পারে সাধারণ মানুষ। ফলে বর্তমান এই প্রস্তুতি কেবল একটি বিকল্প ব্যবস্থা নয়, বরং আধুনিক এশীয় অর্থনীতির টিকে থাকার লড়াই।

 

সূত্র: সিএনএন