ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল‘ জানিয়েছে, আলোচনার টেবিলে ইরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দেশটিতে পুনরায় বিমান হামলা চালানোর কথা গুরুত্বের সাথে চিন্তা করছেন। রোববার ট্রাম্পের এক নির্দেশের পর সোমবার সকাল থেকেই হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নৌ–অবরোধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
হোয়াইট হাউজ থেকে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের সব ধরণের জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ইউএস নেভি এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী যে কোনো জাহাজকে অবরোধ করবে। যারা ইরানকে টোল পরিশোধ করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, অন্য দেশের সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। এই অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসির কাছে মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “ইরান যদি এখন আলোচনায় ফিরে না আসে, তাহলেও আমার কোনো সমস্যা নেই (আই অ্যাম ফাইন)। তারা এখনও পারমাণবিক অস্ত্র চায় এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তারা সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।” হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে সব ধরণের বিকল্প পথই এখন খোলা রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক বলেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকির কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না। তারা যদি যুদ্ধ চায়, তবে আমরাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।” ইরানের ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আসা যে কোনো মার্কিন বা বিদেশি সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













