ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালি

ইরানে সীমিত স্থল অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন: ওয়াশিংটন পোস্ট

ছবি : রয়টার্স

 

মধ্যপ্রাচ্যের ঘনীভূত উত্তেজনার মাঝে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি সীমিত স্থল অভিযানের নীল নকশা চূড়ান্ত করছে পেন্টাগন।

 

এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকা।

 

 

শনিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন এই অভিযানের পরিকল্পনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। তবে পেন্টাগনের এই প্রস্তুতিকে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সম্ভাব্য সব ধরনের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা, যাতে কমান্ডার-ইন-চিফ বা প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

 

 

পেন্টাগনের এই সম্ভাব্য স্থল অভিযান কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং বিশেষ বাহিনী এবং নিয়মিত পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক ‘সীমিত পরিসরের’ অপারেশন হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে খার্গ দ্বীপ। উল্লেখ্য, ইরান তাদের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এই কৌশলগত অবস্থানটি দখল বা অকার্যকর করার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।

 

 

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতভেদও লক্ষ্য করা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “স্থল সেনা মোতায়েন ছাড়াই আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারি।” কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, পেন্টাগনের টেবিলে থাকা এই পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযানের মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

 

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের জ্বালানি খাতের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপে যেকোনো ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়, তা এই অভিযানের ফলে দীর্ঘমেয়াদে অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই প্রস্তুতির খবর জানাজানি হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালি

ইরানে সীমিত স্থল অভিযানের ছক কষছে পেন্টাগন: ওয়াশিংটন পোস্ট

Update Time : ০৮:৫০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

মধ্যপ্রাচ্যের ঘনীভূত উত্তেজনার মাঝে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি সীমিত স্থল অভিযানের নীল নকশা চূড়ান্ত করছে পেন্টাগন।

 

এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকা।

 

 

শনিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন এই অভিযানের পরিকল্পনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। তবে পেন্টাগনের এই প্রস্তুতিকে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সম্ভাব্য সব ধরনের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা, যাতে কমান্ডার-ইন-চিফ বা প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

 

 

পেন্টাগনের এই সম্ভাব্য স্থল অভিযান কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং বিশেষ বাহিনী এবং নিয়মিত পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক ‘সীমিত পরিসরের’ অপারেশন হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে খার্গ দ্বীপ। উল্লেখ্য, ইরান তাদের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এই কৌশলগত অবস্থানটি দখল বা অকার্যকর করার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।

 

 

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতভেদও লক্ষ্য করা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, “স্থল সেনা মোতায়েন ছাড়াই আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারি।” কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, পেন্টাগনের টেবিলে থাকা এই পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযানের মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

 

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের জ্বালানি খাতের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপে যেকোনো ধরনের হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দামে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়, তা এই অভিযানের ফলে দীর্ঘমেয়াদে অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই প্রস্তুতির খবর জানাজানি হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।