ছবি : সংগৃহীত
ইরান ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মুখে প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই চরম সিদ্ধান্ত নেন ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র এক নির্বাহী আদেশে জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘আসন্ন বিপদ’ ঘনিয়ে আসায় এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এর ফলে সরকার এখন থেকে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং মজুত নিশ্চিতে বিশেষ আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।
ফিলিপাইনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক উদ্বেগের তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর আগামী ৪৫ দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব। এই সংকট মোকাবিলায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুশৃঙ্খল বণ্টন তদারকি করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষমতাও এখন সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের এই জরুরি অবস্থার আদেশ প্রাথমিকভাবে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময়সীমা আরও বাড়ানো বা কমানো হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিলিপাইনের এই ঘোষণা কেবল শুরু; মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দক্ষিণ এশিয়ার আরও অনেক দেশ একই পথ অনুসরণ করতে বাধ্য হতে পারে। জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকট ফিলিপাইনের খাদ্য সরবরাহ ও ওষুধ শিল্পের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, যা দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













