ছবি : সংগৃহীত
ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে। জ্বালানি সংকটের জেরে স্থবির হয়ে পড়েছে ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল এক অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী ও কাতারের এলএনজি টার্মিনালে হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে শুরু হয়েছে তীব্র রেশনিং।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্প হাব ভারতের সুরাটে বস্ত্র কারখানাগুলোতে নেমে এসেছে অন্ধকার। গ্যাসের তীব্র সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেক মালিক বিষাক্ত কার্বন মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। কারখানার মালিকরা জানিয়েছেন, বয়লার ও মেশিন চালানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজলেও অনেক আধুনিক যন্ত্র গ্যাস ছাড়া অচল, ফলে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। গুজরাটের পাম্পগুলোতেও দেখা গেছে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন।
জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে ক্রিকেটের বাইশ গজেও। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আসন্ন পিএসএলের আসর নিয়ে নিয়েছে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। জ্বালানি সাশ্রয় ও যাতায়াত খরচ কমাতে ৬টি ভেন্যুর পরিবর্তে খেলা হবে মাত্র দুটি শহরে- লাহোর ও করাচিতে। বাতিল করা হয়েছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং গ্যালারি থাকবে সম্পূর্ণ দর্শকশূন্য। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে চীনেও। শি জিনপিং প্রশাসন দ্বিতীয়বারের মতো ডিজেল ও গ্যাসোলিনের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও স্লোভেনিয়াতেও তেলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। স্লোভেনিয়া সরকার ইতিমধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াতেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্য।
তবে এই ঘোর অন্ধকারের মাঝে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিতে সোমবার বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি জ্বালানির দাম ১৩ শতাংশ কমেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া ও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার বিশাল ছাড় ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। কাতারের রাস এলএনজি টার্মিনালে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এখনো বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোর বিদ্যুৎ খাতকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 




















