সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত এখন নতুন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের আকাশসীমায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান চলাকালীন দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরান থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পরপরই আমাদের ক্রু সদস্যরা নির্ধারিত সুরক্ষা পদ্ধতি (SOP) অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।” ইসরায়েলের দাবি, তাদের কোনো বিমানের ক্ষতি হয়নি এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা অভিযান সফলভাবে শেষ করে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই উত্তেজনাকর ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেনি তেল আবিব।
এদিকে, তেহরান এই ঘটনার পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ড্রোন হামলার দাবি করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, তেল আবিবের কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে তারা সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক এবং একটি রিফুয়েলিং জেটে (জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান) সরাসরি আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই হামলার ফলে ইসরায়েলি সামরিক বিমানের উড্ডয়ন এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েল সেখান থেকে বেশ কিছু সেনা সদস্যকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। উল্লেখ্য, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরটি কেবল বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য নয়, বরং এর দক্ষিণ-পূর্বে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিট এবং যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ওপর থেকে হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের পাল্টা হামলা পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে।

























