ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারি চাকরীজীবীদের প্রতীক্ষিত টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস, যার ফলে বিকেল থেকেই রাজধানী ঢাকার বাস ও ট্রেন টার্মিনালগুলোতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য তারিখকে কেন্দ্র করেই সরকার এবারের দীর্ঘ ছুটির রূপরেখা প্রণয়ন করেছে।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করে রেখেছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদের দিনের সাধারণ ছুটির পাশাপাশি ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ছিল। তবে ঈদযাত্রা আরও নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত করতে জনদাবিপদ মুখে মন্ত্রিসভার গত ৫ মার্চের বৈঠকে ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করলে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটির সাথে মিলে এটি টানা সাত দিনের এক দীর্ঘ অবকাশে রূপ নেয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এক দীর্ঘ বিরতি পেলেন, যা ঈদযাত্রার ভিড়কে বিভিন্ন দিনে ভাগ করে দিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ছুটির প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জরুরি সেবাগুলো এই সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে। এছাড়া টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলো এই দীর্ঘ ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সোমবার শেষ কার্যদিবসে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। সহকর্মীরা একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে বিকেলেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানা ছুটি থাকায় এবার রাস্তায় মানুষের চাপ একবারে না পড়ে ধাপে ধাপে পড়বে, যা ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













