সংগৃহীত ছবি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি থাকলেও প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার এই চিরচেনা দৃশ্যে আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শেষ মুহূর্তের ভিড় আর অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি এড়াতে অনেক চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থী আগেভাগেই গ্রামের পথে রওনা দিচ্ছেন।
আগামী ১৭ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্টেশনের চিত্র বলছে, মানুষ আর অপেক্ষা করতে রাজি নয়। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা পরিবারের সদস্যদের আগেভাগে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেরা ছুটির অপেক্ষায় থাকছেন। সকাল থেকেই প্ল্যাটফর্মে ব্যাগ-লাগেজ হাতে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও স্টেশনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বেশ তৎপর দেখা গেছে।
এবারের ঈদ যাত্রার সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হলো টিকিট ব্যবস্থাপনা। শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় স্টেশনে কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন বা হাহাকার দেখা যায়নি। খুলনাগামী যাত্রী ফুয়াদ জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে গেছে, তাই ভিড় এড়াতে আগেই চলে যাচ্ছি। ট্রেনে যাতায়াত বাসের চেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে হয়।” একই চিত্র দেখা গেছে লালমনিরহাট ও বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের ক্ষেত্রেও। সরকারি ছুটির আগেই বাড়তি ছুটি নিয়ে পুরো পরিবারসহ ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এসব ট্রেনে আসন সংখ্যা রয়েছে ২৮ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ১৬ হাজার ১৯৪টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ১২ হাজার ৭৩২টি আসন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের প্রবেশপথেই দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিনা টিকিটে কাউকে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আফতাব বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন এবারের ঈদ যাত্রা শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে। টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, যাতে প্রকৃত যাত্রীরা কোনো সমস্যায় না পড়েন।” সব মিলিয়ে কিছু যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন পর্যন্ত রেলপথে ঈদ যাত্রা বেশ নির্বিঘ্ন ও আনন্দদায়ক বলেই মনে করছেন সাধারণ যাত্রীরা।















