ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঈদের আগে রাজপথে শ্রমিক নামার ইঙ্গিত; গোয়েন্দা নজরদারি

১৮০ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস না হওয়ার শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে দেশের অন্তত ১৮০টি তৈরি পোশাক কারখানার ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের। সরকারের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, এসব কারখানায় সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ না হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া বেতন ও বোনাস না পেলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করতে পারেন। কোনো একটি কারখানায় অসন্তোষ শুরু হলে তা দ্রুত দাবানলের মতো আশপাশের কারখানায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক কারখানার মালিক পলাতক বা আত্মগোপনে থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১৯ শতাংশ কারখানার মালিক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তারা বর্তমানে অনুপস্থিত, যার ফলে সেসব প্রতিষ্ঠানে বেতনভাতা পরিশোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

 

সরকার নির্ধারিত ১২ মার্চের সময়সীমা পার হলেও শিল্প পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাত্র ২২ শতাংশ কারখানায় বেতনবোনাস সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোর মধ্যে সাবকন্ট্রাক্টিং ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নিবন্ধনহীন অনেক মালিক কারখানা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন বলেও শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছে যে, যেসব প্রতিষ্ঠান বেতন দিতে অক্ষম, তাদের জরুরি ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদী ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করে বেতনবোনাস নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক তৎপরতা চালাতে পারে এমন সংগঠনগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ইতিমধ্যেই বেতনবোনাসের দাবিতে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রাজধানীর মিরপুরসহ পাঁচটি স্থানে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের নেতারা বলছেন, সারা বছর ব্যবসা করার পর ঈদ এলে শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে টালবাহানা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্যদিকে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রধান গাজী জসীম উদ্দীন আশ্বস্ত করেছেন যে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, রবি ও সোমবারের মধ্যে সিংহভাগ কারখানায় বেতন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মঙ্গলবুধবার নাগাদ কিছু অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্পাঞ্চলের ব্যাংকগুলো ঈদের আগের দিন পর্যন্ত খোলা রাখার এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ঈদের আগে রাজপথে শ্রমিক নামার ইঙ্গিত; গোয়েন্দা নজরদারি

১৮০ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস না হওয়ার শঙ্কা

Update Time : ১০:১৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে দেশের অন্তত ১৮০টি তৈরি পোশাক কারখানার ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের। সরকারের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, এসব কারখানায় সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ না হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া বেতন ও বোনাস না পেলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করতে পারেন। কোনো একটি কারখানায় অসন্তোষ শুরু হলে তা দ্রুত দাবানলের মতো আশপাশের কারখানায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক কারখানার মালিক পলাতক বা আত্মগোপনে থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১৯ শতাংশ কারখানার মালিক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তারা বর্তমানে অনুপস্থিত, যার ফলে সেসব প্রতিষ্ঠানে বেতনভাতা পরিশোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

 

সরকার নির্ধারিত ১২ মার্চের সময়সীমা পার হলেও শিল্প পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাত্র ২২ শতাংশ কারখানায় বেতনবোনাস সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোর মধ্যে সাবকন্ট্রাক্টিং ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নিবন্ধনহীন অনেক মালিক কারখানা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন বলেও শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুপারিশ করেছে যে, যেসব প্রতিষ্ঠান বেতন দিতে অক্ষম, তাদের জরুরি ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদী ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করে বেতনবোনাস নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক তৎপরতা চালাতে পারে এমন সংগঠনগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ইতিমধ্যেই বেতনবোনাসের দাবিতে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও রাজধানীর মিরপুরসহ পাঁচটি স্থানে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের নেতারা বলছেন, সারা বছর ব্যবসা করার পর ঈদ এলে শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে টালবাহানা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্যদিকে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রধান গাজী জসীম উদ্দীন আশ্বস্ত করেছেন যে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, রবি ও সোমবারের মধ্যে সিংহভাগ কারখানায় বেতন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মঙ্গলবুধবার নাগাদ কিছু অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্পাঞ্চলের ব্যাংকগুলো ঈদের আগের দিন পর্যন্ত খোলা রাখার এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।