ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সমুদ্র থেকে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ক্যালিফোর্নিয়া; উচ্চ সতর্কতায় পুলিশ

ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ইরানি ড্রোন হামলার সতর্কতা এফবিআইয়ের

ছবি : সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে (ওয়েস্ট কোস্ট) ড্রোন হামলা চালাতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবিসি নিউজের হাতে আসা একটি গোপনীয় সতর্কবার্তার বরাতে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছেযুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান সমুদ্রের একটি অজ্ঞাত জাহাজ থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

 

এফবিআইয়ের এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর তীব্র সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অদূরে কোনো জাহাজ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ব্যবহার করে আকস্মিক হামলার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে।যদিও এই সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট সময়, পদ্ধতি বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনও কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইতিমধ্যে ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত শুরু করায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের এফবিআই অফিস এবং হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন Newsom-এর অফিস জানিয়েছে, তারা ফেডারেল ও স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে। এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় উৎসবের কথা বিবেচনা করে তারা উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে টহল বাড়িয়েছে। সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গোয়েন্দা প্রধান জন কোহেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “ইরানের ল্যাটিন আমেরিকা ও মেক্সিকোতে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক কার্টেলগুলোও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সমুদ্র এবং স্থলউভয় দিক থেকেই ড্রোনের মাধ্যমে হামলার ঝুঁকি এখন বাস্তব।

 

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল যে, ইরান আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি বা সমুদ্রে হামলার সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে। ১২ দিনের টানা বোমাবর্ষণে ইরানের সক্ষমতা অনেককাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হলেও, ‘স্লিপার সেলবা সমুদ্রের বাণিজ্যিক জাহাজে লুকিয়ে রাখা ড্রোনগুলো এখনও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মেক্সিকো সীমান্ত পর্যন্ত পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো ধরনের আকাশপথের অনুপ্রবেশ বা চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো যায়।

 

সূত্র: এবিসি নিউজ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সমুদ্র থেকে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ক্যালিফোর্নিয়া; উচ্চ সতর্কতায় পুলিশ

ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ইরানি ড্রোন হামলার সতর্কতা এফবিআইয়ের

Update Time : ১১:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে (ওয়েস্ট কোস্ট) ড্রোন হামলা চালাতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবিসি নিউজের হাতে আসা একটি গোপনীয় সতর্কবার্তার বরাতে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছেযুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান সমুদ্রের একটি অজ্ঞাত জাহাজ থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

 

এফবিআইয়ের এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর তীব্র সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অদূরে কোনো জাহাজ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ব্যবহার করে আকস্মিক হামলার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে।যদিও এই সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট সময়, পদ্ধতি বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনও কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইতিমধ্যে ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত শুরু করায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের এফবিআই অফিস এবং হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন Newsom-এর অফিস জানিয়েছে, তারা ফেডারেল ও স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে। এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় উৎসবের কথা বিবেচনা করে তারা উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে টহল বাড়িয়েছে। সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গোয়েন্দা প্রধান জন কোহেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “ইরানের ল্যাটিন আমেরিকা ও মেক্সিকোতে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক কার্টেলগুলোও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সমুদ্র এবং স্থলউভয় দিক থেকেই ড্রোনের মাধ্যমে হামলার ঝুঁকি এখন বাস্তব।

 

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল যে, ইরান আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি বা সমুদ্রে হামলার সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে। ১২ দিনের টানা বোমাবর্ষণে ইরানের সক্ষমতা অনেককাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হলেও, ‘স্লিপার সেলবা সমুদ্রের বাণিজ্যিক জাহাজে লুকিয়ে রাখা ড্রোনগুলো এখনও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মেক্সিকো সীমান্ত পর্যন্ত পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো ধরনের আকাশপথের অনুপ্রবেশ বা চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো যায়।

 

সূত্র: এবিসি নিউজ