ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পলাতক ২২ ছাত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বিচারে নতুন মোড়

তোফাজ্জল হত্যা মামলায় ২৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত । ছবি- সংগৃহীত

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত ২২ শিক্ষার্থী পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এ আদেশ প্রদান করেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার অভিযোগে তোফাজ্জল হোসেনকে আটক করে একদল শিক্ষার্থী। তাকে প্রথমে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং পরে ভাত খাওয়ানো হয়। তবে এর পরপরই চুরির অভিযোগ তুলে দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। দফায় দফায় নির্যাতনে তোফাজ্জল অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলেও তদন্তে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে নারাজি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে আগের ২১ জনের সঙ্গে আরও ৭ জনের সম্পৃক্ততা পেয়ে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 

অভিযুক্তদের মধ্যে জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদসহ চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জামিনে আছেন আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম। তবে শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান ও রাশেদ কামাল অনিকসহ বাকি ২২ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই মামলার অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে পলাতকদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

পলাতক ২২ ছাত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বিচারে নতুন মোড়

তোফাজ্জল হত্যা মামলায় ২৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

Update Time : ০৯:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত । ছবি- সংগৃহীত

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত ২২ শিক্ষার্থী পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এ আদেশ প্রদান করেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার অভিযোগে তোফাজ্জল হোসেনকে আটক করে একদল শিক্ষার্থী। তাকে প্রথমে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং পরে ভাত খাওয়ানো হয়। তবে এর পরপরই চুরির অভিযোগ তুলে দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। দফায় দফায় নির্যাতনে তোফাজ্জল অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। প্রথমে থানা পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলেও তদন্তে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে নারাজি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে আগের ২১ জনের সঙ্গে আরও ৭ জনের সম্পৃক্ততা পেয়ে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 

অভিযুক্তদের মধ্যে জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদসহ চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জামিনে আছেন আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম। তবে শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান ও রাশেদ কামাল অনিকসহ বাকি ২২ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই মামলার অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে পলাতকদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।