সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ এবার লাগল সৌদি আরবের শান্ত জনপদে। দেশটির আল–খার্জ গভর্নরেটের একটি আবাসিক কমপাউন্ডে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি প্রবাসী। রোববার (৮ মার্চ) সংঘটিত এই হামলায় আরও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই বিয়োগান্তক ঘটনার খবরটি বিশ্বজুড়ে প্রচার করেছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়েছে, আল–খার্জের একটি বেসামরিক আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যারা ওই ভবনে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে নিহতদের পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য এখনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। আল–জাজিরা জানিয়েছে, ভবনটি মূলত অভিবাসী শ্রমিকদের আবাসস্থল ছিল, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তারা সৌদি আরবের আল–খার্জসহ বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানের রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে সামরিক হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মোতায়েন করা বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়। তবে সামরিক স্থাপনা ছাড়াও বেসামরিক আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসীর মনে।
এই ঘটনার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই হামলার জবাবে সৌদি আরব বা তাদের মিত্ররা কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। এদিকে, নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়াযুদ্ধ এখন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













