ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অধিকার রক্ষা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস: সমৃদ্ধ আগামীর লড়াইয়ে অদম্য নারী

ছবি : সংগৃহীত

 

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস।আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দিনভর নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, “নারীদের মূলধারার বাইরে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।এ সময় তিনি নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে ১২শ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং বর্তমান সরকারেরফ্যামিলি কার্ডকর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি নারীপুরুষের সমান অধিকার ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

এবারের নারী দিবসের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেগণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীসম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংকসমূহ অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। মহিলা অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

 

গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও রয়েছে নানা আয়োজন। জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সেখানে সাংবাদিক মমতাজ বানুকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। এছাড়া একশন এইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠান এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) উদ্যোগে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে পবিত্র রমজান মাস চলায় ডিআরইউ তাদের মূল উদযাপনের বাকি অংশ ঈদুল ফিতরের পর পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কের সুতা কারখানার নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই দিবসের বীজ বপন হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১০ সালে ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাবে ১৯১১ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে এবং ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ একে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। আজ সেই সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিবস।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

অধিকার রক্ষা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস: সমৃদ্ধ আগামীর লড়াইয়ে অদম্য নারী

Update Time : ০৮:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস।আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দিনভর নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, “নারীদের মূলধারার বাইরে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।এ সময় তিনি নারীর ক্ষমতায়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে ১২শ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং বর্তমান সরকারেরফ্যামিলি কার্ডকর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি নারীপুরুষের সমান অধিকার ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

এবারের নারী দিবসের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেগণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীসম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংকসমূহ অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। মহিলা অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

 

গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও রয়েছে নানা আয়োজন। জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সেখানে সাংবাদিক মমতাজ বানুকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। এছাড়া একশন এইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠান এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) উদ্যোগে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে পবিত্র রমজান মাস চলায় ডিআরইউ তাদের মূল উদযাপনের বাকি অংশ ঈদুল ফিতরের পর পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালে নিউইয়র্কের সুতা কারখানার নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই দিবসের বীজ বপন হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১০ সালে ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাবে ১৯১১ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে এবং ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ একে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। আজ সেই সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিবস।