ছবি : সংগৃহীত
হিমালয়কন্যা নেপালে এক রাজনৈতিক ভূমিকম্প ঘটে গেছে। দুর্নীতিবিরোধী জেন–জি বিক্ষোভের উত্তাল স্রোতে সওয়ার হয়ে নেপালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ একাই পাল্টে দিয়েছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া কাঠমাণ্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ। তাঁর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে ধরাশায়ী করে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নেপাল নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ২৭৫টি আসনের মধ্যে প্রথম ৮৩টির ফলেই আরএসপি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে।
ঘোষিত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ৮৩টি আসনের মধ্যে ৭১টিতেই জয় পেয়েছে বালেন শাহের আরএসপি। নেপালের ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী দল ‘নেপালি কংগ্রেস’ মাত্র ১০টি আসনে জয় নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, নেপালের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএন–ইউএমএল) মাত্র ৩টি আসন পেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ২টি, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ১টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয়লাভ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ১৬৫টি আসনে প্রত্যক্ষ ভোট হলেও সংখ্যানুপাত পদ্ধতির বাকি ১১০টি আসনেই আরএসপির জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ৫ মার্চের এই নির্বাচনে সবচেয়ে নাটকীয় এবং ঐতিহাসিক ফলাফলটি এসেছে কোশী প্রদেশের ঝাপা–৫ আসন থেকে। এই আসনে আরএসপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বালেন্দ্র শাহ (যিনি বালেন নামে পরিচিত) দেশটির দুইবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিএন–ইউএমএল–এর প্রভাবশালী চেয়ারম্যান কেপি শর্মা অলিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, ৩৫ বছর বয়সী বালেন শাহ পেয়েছেন ৬৮,৩৪৮ ভোট, যেখানে ৭৪ বছর বয়সী ঝানু রাজনীতিক অলি পেয়েছেন মাত্র ১৮,৭৩৪ ভোট। ৪৯,৬১৪ ভোটের এই বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অলির কয়েক দশকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কার্যত অবসান ঘটল বলে মনে করছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিমালয়ান টাইমস’।
বালেন শাহের এই জয় কেবল একটি আসন জয় নয়, বরং এটি নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া জেন–জিদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ঢেউকে পুঁজি করে বালেন প্রতিষ্ঠানবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলেছিলেন। অলির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে তাঁর নিজ দুর্গে পরাজিত করার ঘোষণা দিয়ে ঝাপা–৫ আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বালেন শাহ প্রমাণ করেছেন যে, নেপালের মানুষ এখন প্রবীণ নেতৃত্বের বদলে স্বচ্ছতা ওুণ্য প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপরই বেশি আস্থাশীল। এখন বালেন শাহের নেতৃত্বে নেপালে একটি নতুন জমানার শুরুর অপেক্ষায় পুরো হিমালয় অঞ্চল।
সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













