ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা

তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলের হামলা

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন চরম উত্তেজনার শিখরে পৌঁছেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের ভেতরে রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার সংলগ্ন এলাকায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানবন্দরে আগুনের বিশাল গোলা তৈরি হচ্ছে, যা পুরো তেহরানের আকাশকে আলোকিত করে তুলেছে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরানে এইসুনির্দিষ্টহামলা চালাচ্ছে। আইডিএফএর দাবি অনুযায়ী, মেহরাবাদ বিমানবন্দরটি কেবল বেসামরিক কাজেই নয়, বরং সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহনের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। হামলার সময় তেহরানের আকাশজুড়ে বিকট শব্দে বিমান বিধ্বংসী কামানের গর্জন শোনা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ইরান এই হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো তেহরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেহরাবাদ বিমানবন্দরে এই হামলা ইরানের বিমান যোগাযোগ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের আঘাত। এই বিমানবন্দরটি তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আকাশপথের অনেক ফ্লাইট অন্য দেশে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের পর ইরান পাল্টা কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী। ওয়াশিংটন এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরে বারুদের গন্ধ বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য সম্ভবত এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা

তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলের হামলা

Update Time : ০৮:২৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন চরম উত্তেজনার শিখরে পৌঁছেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের ভেতরে রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার সংলগ্ন এলাকায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানবন্দরে আগুনের বিশাল গোলা তৈরি হচ্ছে, যা পুরো তেহরানের আকাশকে আলোকিত করে তুলেছে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরানে এইসুনির্দিষ্টহামলা চালাচ্ছে। আইডিএফএর দাবি অনুযায়ী, মেহরাবাদ বিমানবন্দরটি কেবল বেসামরিক কাজেই নয়, বরং সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহনের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। হামলার সময় তেহরানের আকাশজুড়ে বিকট শব্দে বিমান বিধ্বংসী কামানের গর্জন শোনা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ইরান এই হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো তেহরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেহরাবাদ বিমানবন্দরে এই হামলা ইরানের বিমান যোগাযোগ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের আঘাত। এই বিমানবন্দরটি তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আকাশপথের অনেক ফ্লাইট অন্য দেশে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের পর ইরান পাল্টা কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী। ওয়াশিংটন এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরে বারুদের গন্ধ বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য সম্ভবত এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।