ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আট কিলোমিটার জুড়ে ছড়ায় বিস্ফোরক, চ্যালেঞ্জের মুখে আইডিএফের প্রতিরক্ষা

ইসরায়েলে ইরানের ক্লাস্টার মিসাইল হামলা: ধ্বংসযজ্ঞের নতুন মাত্রা

মারাত্মক ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ল ইরান, দিগ্বিদিক ইসরায়েল | সংগৃহীত ছবি

 

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এক শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবারের এই হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘ক্লাস্টার মিসাইল’ বা গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

 

ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলার আগেই দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছিল। আইডিএফ জানায়, ইরান এবার সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে ক্লাস্টার বোমা সমৃদ্ধ ব্যালিস্টিক মিসাইল বেছে নিয়েছে। এই বিশেষ ধরনের মিসাইল যখন আকাশ থেকে নিচে নামতে শুরু করে, তখন এটি মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসংখ্য ছোট ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র বিশাল এলাকা জুড়ে একযোগে একাধিক জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম।

 

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্লাস্টার মিসাইলগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর প্রায় ২০টি ছোট অংশে বা ‘সাব-মিউনিশনে’ বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশে প্রায় আড়াই কেজি করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক থাকে। এই বিস্ফোরকগুলো প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল মিসাইলটিকে প্রতিহত করা গেলেও এর ক্ষুদ্র অংশগুলো ছড়িয়ে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যায়।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন কৌশলগত হামলা ইসরায়েলের সুপরিচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম ও অ্যারো) জন্য একটি চরম পরীক্ষা। গুচ্ছ বোমার এই প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারকে বিভ্রান্ত করতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই হামলার ফলে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকাগুলোতে এ ধরনের ছড়ানো বিস্ফোরকের উপস্থিতি প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

আট কিলোমিটার জুড়ে ছড়ায় বিস্ফোরক, চ্যালেঞ্জের মুখে আইডিএফের প্রতিরক্ষা

ইসরায়েলে ইরানের ক্লাস্টার মিসাইল হামলা: ধ্বংসযজ্ঞের নতুন মাত্রা

Update Time : ০৫:৩৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মারাত্মক ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ল ইরান, দিগ্বিদিক ইসরায়েল | সংগৃহীত ছবি

 

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এক শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবারের এই হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘ক্লাস্টার মিসাইল’ বা গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

 

ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলার আগেই দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছিল। আইডিএফ জানায়, ইরান এবার সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে ক্লাস্টার বোমা সমৃদ্ধ ব্যালিস্টিক মিসাইল বেছে নিয়েছে। এই বিশেষ ধরনের মিসাইল যখন আকাশ থেকে নিচে নামতে শুরু করে, তখন এটি মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসংখ্য ছোট ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র বিশাল এলাকা জুড়ে একযোগে একাধিক জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম।

 

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্লাস্টার মিসাইলগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর প্রায় ২০টি ছোট অংশে বা ‘সাব-মিউনিশনে’ বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশে প্রায় আড়াই কেজি করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক থাকে। এই বিস্ফোরকগুলো প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল মিসাইলটিকে প্রতিহত করা গেলেও এর ক্ষুদ্র অংশগুলো ছড়িয়ে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যায়।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন কৌশলগত হামলা ইসরায়েলের সুপরিচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম ও অ্যারো) জন্য একটি চরম পরীক্ষা। গুচ্ছ বোমার এই প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারকে বিভ্রান্ত করতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই হামলার ফলে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকাগুলোতে এ ধরনের ছড়ানো বিস্ফোরকের উপস্থিতি প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।