ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবার পৌঁছেছে ইসরাইলের হৃদপিণ্ডে। দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাজধানী তেল আবিবের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, হঠাৎ করেই তেল আবিবের আকাশে সাইরেন বেজে ওঠে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে আঘাত হানে। হামলার পরপরই বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ফ্লাইট অপারেশন সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। এটি ইসরাইলের সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং সুরক্ষিত বিমানবন্দর হওয়ায় এই হামলাকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই ভয়াবহ হামলা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত এই ধরণের হামলার পর আইডিএফ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ বা ‘অ্যারো’র কার্যকারিতা নিয়ে বিবৃতি দিলেও, এবারের নীরবতা নিয়ে নানা মহলে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তেল আবিব।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেন গুরিয়নের মতো সুরক্ষিত জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানা প্রমাণ করে যে, ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কঠোর বেষ্টনী ভেদ করা সম্ভব। এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার না করলেও, লেবানন বা ইয়েমেন থেকে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর পুরো ইসরাইল জুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা















