ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পাল্টা হুমকির মুখে উত্তপ্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল; আক্রান্ত পারমাণবিক কেন্দ্র

ছবি : সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পঞ্চম দিনে ইরান এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বুধবার রাজধানী তেহরানসহ পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা ১,০৪৫ জনে পৌঁছেছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, হামলায় আবাসিক ভবনগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৬,০০০ মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০০ জনই শিশু ও কিশোর। যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরানসহ বিভিন্ন শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছেন।

 

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)-এর আধাসামরিক শাখাবাসিজএবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়সমূহ। তবে হামলার তীব্রতায় সাধারণ জনপদগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জানিয়েছে, সেখানকার দুটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন থাকলেও মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনো ক্ষতি হয়নি, ফলে বিকিরণের কোনো ঝুঁকি নেই।

 

নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে বিশাল জনসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ আলেম আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি জানিয়েছেন, তারা খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো নতুন নেতাই ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা সফল করতে পারবেন না।

 

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “লেবাননে ইরানি দূতাবাসে কোনো হামলা হলে তার চূড়ান্ত জবাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ইসরায়েলি স্থাপনায় দেওয়া হবে।এই সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, “ট্রাম্প আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দিয়ে কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব, যেখানে যুদ্ধের দামামা প্রতিদিন নতুন রূপ নিচ্ছে।

 

সূত্র : আল-জাজিরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

পাল্টা হুমকির মুখে উত্তপ্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল; আক্রান্ত পারমাণবিক কেন্দ্র

Update Time : ১২:১৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পঞ্চম দিনে ইরান এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বুধবার রাজধানী তেহরানসহ পবিত্র শহর কোম, ইসফাহান এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা ১,০৪৫ জনে পৌঁছেছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, হামলায় আবাসিক ভবনগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৬,০০০ মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০০ জনই শিশু ও কিশোর। যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রায় এক লাখ মানুষ তেহরানসহ বিভিন্ন শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছেন।

 

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)-এর আধাসামরিক শাখাবাসিজএবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডের কার্যালয়সমূহ। তবে হামলার তীব্রতায় সাধারণ জনপদগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জানিয়েছে, সেখানকার দুটি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন থাকলেও মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের কোনো ক্ষতি হয়নি, ফলে বিকিরণের কোনো ঝুঁকি নেই।

 

নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে বিশাল জনসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ আলেম আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি জানিয়েছেন, তারা খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো নতুন নেতাই ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা সফল করতে পারবেন না।

 

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “লেবাননে ইরানি দূতাবাসে কোনো হামলা হলে তার চূড়ান্ত জবাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ইসরায়েলি স্থাপনায় দেওয়া হবে।এই সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, “ট্রাম্প আলোচনার সব পথ বন্ধ করে দিয়ে কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব, যেখানে যুদ্ধের দামামা প্রতিদিন নতুন রূপ নিচ্ছে।

 

সূত্র : আল-জাজিরা।