ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন দেশটির জ্যেষ্ঠ আলেমরা। সংবেদনশীল এই আলোচনার বিষয়ে অবগত তিন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, উত্তরসূরি হিসেবে খামেনির বড় ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনি এখন সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। গতকাল দিনভর চলে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক।
খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ গতকাল সকালে ও সন্ধ্যায় দুটি ভার্চুয়াল বৈঠক করে। মূলত ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় সশরীরে উপস্থিত না হয়ে তাঁরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেন। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, কুমে যে ভবনে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ইসরায়েল হামলা চালালেও আগে থেকেই সেটি খালি ছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ বুধবার (৫ মার্চ) সকালেই মুজতবাকে উত্তরসূরি ঘোষণার কথা ছিল। তবে কয়েকজন আলেম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এখনই ঘোষণা দিলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারেন।
মুজতবা খামেনি ইরানের প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বাহিনীটি ইতিমধ্যে তাঁর পক্ষে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে। অবশ্য চূড়ান্ত তালিকায় আলিরেজা আরাফি ও সাইয়েদ হাসান খোমেনির নামও বিবেচনায় রয়েছে। এদিকে ইরান সরকার নিশ্চিত করেছে যে, গত শনিবারের সেই ভয়াবহ হামলায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। পরিবারের শোক সামলে মুজতবা খামেনি এখন ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসবেন কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













