ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হলো লন্ডনের বিলাসপণ্যের সেই আধুনিক ব্র্যান্ড

চিরতরে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের হোতা এবং ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত করপোরেট সাম্রাজ্যইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিদ্বিতীয়বারের মতো চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হওয়ার প্রায় ১৫২ বছর পর, কোম্পানিটির আধুনিক সংস্করণটিও এবার দেউলিয়া হয়ে অবসায়ন প্রক্রিয়ায় গেছে। ২০১০ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা এই ঐতিহাসিক নামের স্বত্ব কিনে নিয়ে লন্ডনের মেফেয়ারে বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তবে বিপুল ঋণের বোঝা আর লোকসানের মুখে শেষ পর্যন্ত এই আধুনিক সংস্করণটিও ব্যবসায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হলো।

 

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানিটির অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বর্তমানে লন্ডনের নিউ বন্ড স্ট্রিটে তাদের ফ্ল্যাগশিপ দোকানটি খালি পড়ে আছে। লিকুইডেটরদের তথ্যমতে, কোম্পানিটি মূল গ্রুপের কাছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি ঋণী। এছাড়া কর বাবদ প্রায় ২ লাখ পাউন্ড এবং কর্মীদের বেতনের বড় একটি অংশ বকেয়া রয়েছে। সঞ্জীব মেহতা যখন কোম্পানিটি কিনেছিলেন, তখন একেভারতীয়দের প্রতিশোধহিসেবে দেখা হয়েছিল। কারণ যে কোম্পানি একসময় ভারত লুট করেছিল, তার মালিক হয়েছিলেন একজন ভারতীয়। কিন্তু সেই তাত্ত্বিক জয় বাণিজ্যিক সাফল্যে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।

 

১৬০০ সালে রানি প্রথম এলিজাবেথের ফরমানের মাধ্যমে গঠিত এই কোম্পানিটি ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার শাসনভার দখল করে নেয়। এক সময় বিশ্বের প্রায় অর্ধেক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের আড়াই লাখ সেনার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে ভারত শাসন ও চরম শোষণ চালিয়েছিল। তাদের শাসনকালে বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর কোম্পানির শাসনভার ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায় এবং ১৮৭৪ সালে এটি বিলুপ্ত হয়। আধুনিক যুগে বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে ফিরে এসেও শেষ পর্যন্ত দেনার দায়ে ডুবে ঐতিহাসিকভাবে কুখ্যাত এই নামের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হলো লন্ডনের বিলাসপণ্যের সেই আধুনিক ব্র্যান্ড

চিরতরে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

Update Time : ০৯:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের হোতা এবং ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত করপোরেট সাম্রাজ্যইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিদ্বিতীয়বারের মতো চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হওয়ার প্রায় ১৫২ বছর পর, কোম্পানিটির আধুনিক সংস্করণটিও এবার দেউলিয়া হয়ে অবসায়ন প্রক্রিয়ায় গেছে। ২০১০ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা এই ঐতিহাসিক নামের স্বত্ব কিনে নিয়ে লন্ডনের মেফেয়ারে বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে কোম্পানিটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তবে বিপুল ঋণের বোঝা আর লোকসানের মুখে শেষ পর্যন্ত এই আধুনিক সংস্করণটিও ব্যবসায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হলো।

 

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানিটির অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বর্তমানে লন্ডনের নিউ বন্ড স্ট্রিটে তাদের ফ্ল্যাগশিপ দোকানটি খালি পড়ে আছে। লিকুইডেটরদের তথ্যমতে, কোম্পানিটি মূল গ্রুপের কাছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি ঋণী। এছাড়া কর বাবদ প্রায় ২ লাখ পাউন্ড এবং কর্মীদের বেতনের বড় একটি অংশ বকেয়া রয়েছে। সঞ্জীব মেহতা যখন কোম্পানিটি কিনেছিলেন, তখন একেভারতীয়দের প্রতিশোধহিসেবে দেখা হয়েছিল। কারণ যে কোম্পানি একসময় ভারত লুট করেছিল, তার মালিক হয়েছিলেন একজন ভারতীয়। কিন্তু সেই তাত্ত্বিক জয় বাণিজ্যিক সাফল্যে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।

 

১৬০০ সালে রানি প্রথম এলিজাবেথের ফরমানের মাধ্যমে গঠিত এই কোম্পানিটি ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার শাসনভার দখল করে নেয়। এক সময় বিশ্বের প্রায় অর্ধেক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের আড়াই লাখ সেনার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে ভারত শাসন ও চরম শোষণ চালিয়েছিল। তাদের শাসনকালে বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর কোম্পানির শাসনভার ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায় এবং ১৮৭৪ সালে এটি বিলুপ্ত হয়। আধুনিক যুগে বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে ফিরে এসেও শেষ পর্যন্ত দেনার দায়ে ডুবে ঐতিহাসিকভাবে কুখ্যাত এই নামের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটল।