ছবিসূত্র : রয়টার্স
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তজনা এবার রূপ নিয়েছে ‘খোলা যুদ্ধে’। কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ।
দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। তবে লন্ডনভিত্তিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (IISS)-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামরিক সক্ষমতার বিচারে আফগানিস্তানের তুলনায় পাকিস্তান বহুগুণ শক্তিশালী।
পাকিস্তান তার সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নে চীনের মতো বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারের সহায়তা নিচ্ছে। ইসলামাবাদ নিয়মিতভাবে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনীকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের সময় বিদেশি সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করলেও কারিগরি সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে আফগান তালেবানদের শক্তির গ্রাফ দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে।
সৈন্য সংখ্যা ও জনবল: পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীতে ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৬০ হাজার সেনাবাহিনীতে, ৭০ হাজার বিমানবাহিনীতে এবং ৩০ হাজার নৌবাহিনীতে কর্মরত। বিপরীতে, আফগান তালেবানদের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার, যা তারা ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।
যুদ্ধযান ও আকাশপথের সক্ষমতা: পাকিস্তানের বহরে ৪৬৫টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। এছাড়া তাদের রয়েছে ৬ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান এবং ৪ হাজার ৬০০টি কামান। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কোনো কার্যকর বিমানবাহিনী নেই। তাদের কাছে মাত্র ৬টি পুরনো বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার থাকলেও তার কয়টি সচল তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাদের কাছে থাকা সোভিয়েত আমলের ট্যাংক ও কামানের সঠিক সংখ্যাও অজানা।
পারমাণবিক শ্রেষ্ঠত্ব: সবচেয়ে বড় ব্যবধান গড়ে দিচ্ছে পারমাণবিক সক্ষমতা। পাকিস্তান একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, যাদের ভাণ্ডারে অন্তত ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। আফগানিস্তানের এমন কোনো অস্ত্রভাণ্ডার নেই। রণকৌশল এবং সরঞ্জামের এই বিশাল ব্যবধান বর্তমান সংঘাতকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

অনলাইন ডেস্ক 













