মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। সিএনএন ও সিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে যে তারা হামলার জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কিছুটা সময় নিচ্ছেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে, তবে মিত্রদের সাথে পরামর্শ এবং সম্ভাব্য ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন তিনি। সপ্তাহান্তের মধ্যেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এখন এক বিরল উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে সেখানে ১৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং নয়টি ডেস্ট্রয়ার অন্যতম। এর পাশাপাশি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ এই অঞ্চলে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
একই সাথে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির অবস্থান ইরানের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এফ-২২ র্যাপ্টর স্টেলথ ফাইটার এবং কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফটের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হামলার নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে সরকারি কঠোরতা। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি সমর্থন এবং ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে ট্রাম্প প্রশাসন বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
এছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় এই মুহূর্তে হামলার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় আসবে না বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন। তবে চূড়ান্ত সংঘাত শুরু হলে তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


























