ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিরঙ্কুশ জয়ের পর দায়িত্ব নিল বিএনপি সরকার; সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক শপথ।

১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান: বাংলাদেশে নতুন যুগের সূচনা

দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও রাজপথের কঠিন লড়াই শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৮ মাস পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

 

 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, এই জয় কোনো একক দলের নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জয়। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী স্থান পেয়েছেন, যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এবং সরকার গঠন দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরঙ্কুশ জয়ের পর দায়িত্ব নিল বিএনপি সরকার; সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক শপথ।

১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান: বাংলাদেশে নতুন যুগের সূচনা

Update Time : ০৬:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও রাজপথের কঠিন লড়াই শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৮ মাস পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

 

 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, এই জয় কোনো একক দলের নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জয়। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী স্থান পেয়েছেন, যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এবং সরকার গঠন দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।