ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অর্পণ করা দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন ড. ইউনূস

‘দেশকে সচল করাই ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ’: বিদায়বেলায় ড. ইউনূস

দীর্ঘ ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরার পর জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি জানান, একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি আজ দেশবাসীর সামনে উপস্থিত হয়েছেন।

 

বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান ও সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণ করে বলেন, “সেটি ছিল এক মহা মুক্তির দিন, এক অপার্থিব আনন্দের মুহূর্ত। বাংলাদেশিরা দেশেবিদেশে যে যেখানে ছিলেন, আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিলেন। তরুণ ছাত্রছাত্রীরা এ দেশকে এক দৈত্যের গ্রাস থেকে বের করে এনেছে।তিনি আরও বলেন, দেশ মুক্ত হলেও তৎকালীন অচল রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল করাই ছিল তাঁর সরকারের সামনে সবচাইতে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ।

 

দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা যখন আমাকে খবর দিল, আমি তখন বিদেশে ছিলাম। শুরুতে আমি এই গুরুভার নিতে রাজি ছিলাম না। কিন্তু জাতির প্রতি কর্তব্যের কথা বলে তাঁরা আমাকে রাজি করাল। আজ ১৮ মাস পর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে আমার যাওয়ার পালা।তিনি তাঁর সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন এবং অচল দেশকে সচল করার প্রক্রিয়ায় দেশবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি বিশেষ সাংবিধানিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এবং নবনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ চূড়ান্ত হলো। ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে নতুন সরকারের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, বিপ্লবের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে জনগণ সদা সজাগ থাকবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

অর্পণ করা দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন ড. ইউনূস

‘দেশকে সচল করাই ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ’: বিদায়বেলায় ড. ইউনূস

Update Time : ০৯:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরার পর জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি জানান, একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি আজ দেশবাসীর সামনে উপস্থিত হয়েছেন।

 

বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান ও সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণ করে বলেন, “সেটি ছিল এক মহা মুক্তির দিন, এক অপার্থিব আনন্দের মুহূর্ত। বাংলাদেশিরা দেশেবিদেশে যে যেখানে ছিলেন, আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিলেন। তরুণ ছাত্রছাত্রীরা এ দেশকে এক দৈত্যের গ্রাস থেকে বের করে এনেছে।তিনি আরও বলেন, দেশ মুক্ত হলেও তৎকালীন অচল রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল করাই ছিল তাঁর সরকারের সামনে সবচাইতে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ।

 

দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা যখন আমাকে খবর দিল, আমি তখন বিদেশে ছিলাম। শুরুতে আমি এই গুরুভার নিতে রাজি ছিলাম না। কিন্তু জাতির প্রতি কর্তব্যের কথা বলে তাঁরা আমাকে রাজি করাল। আজ ১৮ মাস পর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে আমার যাওয়ার পালা।তিনি তাঁর সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন এবং অচল দেশকে সচল করার প্রক্রিয়ায় দেশবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি বিশেষ সাংবিধানিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এবং নবনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ চূড়ান্ত হলো। ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে নতুন সরকারের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, বিপ্লবের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে জনগণ সদা সজাগ থাকবে।