বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝে রাজনৈতিক সৌজন্য ও সৌহার্দ্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে রওনা হয়ে ৭টার দিকে জামায়াত আমিরের আবাসিক কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান ফুলের তোড়া দিয়ে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তারেক রহমানের এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ১১–দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এ সময় তিনি একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমানের এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর বিজয়ী দলের প্রধানের এমন সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের পথে এক ইতিবাচক বার্তা প্রদান করছে।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাত ৮টায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। শপথ গ্রহণের আগে শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের সাথে এই ধারাবাহিক মতবিনিময় নতুন সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক পথচলারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













