অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব হঠাৎ দেশ ছেড়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে–৫৮৩ (EK 583) ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ ত্যাগের সময় তিনি তাঁর নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট (নম্বর: NMF001DH5) ব্যবহার করেছেন। তাঁর এই আকস্মিক দেশত্যাগের ঘটনায় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফয়েজ তৈয়্যবের প্রাথমিক গন্তব্য দুবাই হলেও তাঁর চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল নেদারল্যান্ডস। দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকা এই ডাচ নাগরিক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের প্রযুক্তি খাত সংস্কারের আহ্বানে বাংলাদেশে আসেন। শুরুতে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে ‘পলিসি অ্যাডভাইজার (সংস্কার ও সমন্বয়)’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলে এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান ফয়েজ তৈয়্যব।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ফয়েজ তৈয়্যবের বিদেশ গমনে কোনো ধরণের আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘লুকআউট নোটিশ’ না থাকায় অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিমানে আরোহণ করেন। তবে গত ৫ মার্চ থেকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করা একজন নীতিনির্ধারকের এমন নিরবচ্ছিন্ন প্রস্থান নিয়ে সচিবালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই একে প্রযুক্তি খাতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো বাঁক হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের প্রযুক্তি খাতের পলিসি ও ডিজিটাল অবকাঠামো সংস্কারে ফয়েজ তৈয়্যব নেপথ্যে থেকে বড় ভূমিকা পালন করছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














