দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসন ও লড়াই শেষে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটলো বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকা–১৭ এবং পৈতৃক নিবাস বগুড়া–৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তাঁর এই জোড়া বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনা শেষে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, উভয় আসনেই তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। সংসদীয় আসনের নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার পর থেকেই সারা দেশ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল আসতে শুরু করে। তারেক রহমানের বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গুলশান ও বগুড়ায় আনন্দ মিছিলে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন হাজার হাজার সমর্থক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের এই বিজয় তাঁর জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি জনআস্থারই বহিঃপ্রকাশ। ঢাকা–১৭ আসনের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং পৈতৃক ভিটা বগুড়া–৬ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের মাধ্যমে তিনি আগামী সরকারের নেতৃত্বে আসার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছিল যে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেলে তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অধিকাংশ আসনেই বড় দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশের প্রধান দুই আসন থেকে তারেক রহমানের বিজয় বিএনপি শিবিরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। দেশ বিদেশের সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের কড়া নজরদারিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শাসনভার এখন কাদের হাতে যাচ্ছে, তা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













