ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১৮ মিনিটের এই নাতিদীর্ঘ ভাষণে তিনি জেন–জি (তরুণ প্রজন্ম), নারী সমাজ এবং সংখ্যালঘুসহ সকল ধর্মের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আসন্ন নির্বাচনে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জোরালো আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আজ প্রকৃত পরিবর্তন চায়। আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা ইনশাআল্লাহ কেবল আমাদেরই আছে। আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় আমরা সরকার গঠন করতে পারলে, প্রথম দিন ফজরের নামাজ পড়েই আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব। রাষ্ট্র পরিচালনা আমাদের কাছে কোনো উপভোগের বস্তু নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব।”
নারী ও তরুণদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। জেন–জি ও তরুণদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি মেধাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী দেশ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবার। আমাদের শাসনামলে কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা অতীতেও সোচ্চার ছিলাম, ভবিষ্যতেও কেউ ধর্মীয় পরিচয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ১১–দলীয় জোটের সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে নতুন ভোরের সূচনা। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে রায় দিয়ে ইনসাফ কায়েমের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













