ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে এক নতুন রাজনীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এই ভাষণে তিনি অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল–ত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই।আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর ভাষায়, “দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন, ততটাই কঠোর হব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখাই হবে আমাদের সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।” তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবীর (সা.) মহান আদর্শ ‘ন্যায়পরায়ণতা’ হবে বিএনপির মূলমন্ত্র।
তরুণ ভোটারদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান আহ্বান জানান, “তারুণ্যের প্রথম ভোট হোক ধানের শীষের জন্য।” তিনি গত ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, অতীতে মানুষ যখন ঘরবন্দি ছিল, আজ সেই পরিবেশ নেই। এখন সময় এসেছে ভোট দিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের। তিনি ভোটারদের প্রতি একটি বিশেষ চুক্তি প্রস্তাব করে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন; আর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবে। তারা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা সরাসরি আমি নিজে তদারকি করব।”
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারিকে জনগণের বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিবার ও দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষের বিকল্প নেই। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়বিচারক সরকার গঠনের লক্ষে তিনি দেশবাসীকে সারাদিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ব্যালট বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানান। এই ভাষণের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিএনপি সমর্থকদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













