আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারী জেলা সদরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোট ডাকাতি করা সেই স্বৈরাচার পালালেও তাদের সহযাত্রীরা দেশে রয়ে গেছে এবং তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।”
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট দল ভোটারদের, বিশেষ করে মা–বোন ও অন্য ধর্মের মানুষদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, “তারা মা–বোনদের বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আপনারা ১২ তারিখে নির্ভয়ে ভোট দেবেন। এই ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, জেল–জুলুম সহ্য করেছে। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নয়, বরং দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন।” তিনি নীলফামারীবাসীকে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন ঘিরে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
অঞ্চলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “নীলফামারী ইপিজেডকে আরও বড় করা হবে এবং আরও কলকারখানা গড়ে তুলে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে। এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করা হবে আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ। ইনশাআল্লাহ, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে, যাতে উত্তরবঙ্গ আবার সবুজ ও শস্য–শ্যামল হয়ে উঠতে পারে।”
সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুরা সমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ তাঁদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের জন্য সম্মানজনক মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের মানুষের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ, তাই দেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | নীলফামারী 













