আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহুমুখী সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক অঙ্গীকার সংবলিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার উন্মোচন করেন। পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারকে বিএনপি কেবল দলীয় প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার ও ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম দিকেই গুরুত্ব পেয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সাংবিধানিক সংস্কার। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, পুলিশ বাহিনীর আমূল সংস্কার এবং মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। অর্থনৈতিক খাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ ঋণ ও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে দেওয়া হবে বিশেষ কার্ড। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টির কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘মিড-ডে মিল’ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ (PayPal) চালু করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান। এছাড়া নদী খনন ও পাঁচ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার মহাপরিকল্পনা ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া এবং ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সবশেষে, ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ও সমতলের জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা। লুটপাটের বদলে উৎপাদন এবং ভয়ের বদলে অধিকার নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন কল্যাণরাষ্ট্র গড়াই বিএনপির আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













