ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৬ ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয়; চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৪৫২ কোটি মার্কিন ডলার

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২০ কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের মজুত বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের দাম আকস্মিক কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এবং চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৯৬ মিলিয়ন বা প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ‘মাল্টিপল প্রাইস অকশন’ (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ডলার কেনা হয়েছে। আজকের নিলামে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট এবং কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। মূলত ডলারের অতিরিক্ত জোগানের কারণে মুদ্রাবাজারে যাতে বড় কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয় এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৪৫২ কোটি মার্কিন ডলার (৪.৫২ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও এই ক্রয় বড় ভূমিকা রাখছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, ডলারের দাম নির্দিষ্ট একটি সীমার মধ্যে থাকলে বিনিয়োগ ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

 

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে ডলারের বাজারে যাতে অতি-তারল্য সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। ডলার কিনে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও এটি পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৬ ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয়; চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেনা হয়েছে ৪৫২ কোটি মার্কিন ডলার

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২০ কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Update Time : ০২:১৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের মজুত বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের দাম আকস্মিক কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এবং চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৯৬ মিলিয়ন বা প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ‘মাল্টিপল প্রাইস অকশন’ (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ডলার কেনা হয়েছে। আজকের নিলামে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট এবং কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। মূলত ডলারের অতিরিক্ত জোগানের কারণে মুদ্রাবাজারে যাতে বড় কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয় এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ৪৫২ কোটি মার্কিন ডলার (৪.৫২ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও এই ক্রয় বড় ভূমিকা রাখছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, ডলারের দাম নির্দিষ্ট একটি সীমার মধ্যে থাকলে বিনিয়োগ ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

 

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে ডলারের বাজারে যাতে অতি-তারল্য সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। ডলার কিনে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও এটি পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।