আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুরের ঐতিহাসিক সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে ‘সুবিধাবাদী ও রূপ পরিবর্তনকারী’ দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সময় বুঝে এরা রূপ বদলায়। দেশের মানুষ এদের নাম দিয়েছে ‘গুপ্ত’। এরা কেবল নিজেদের রূপ পরিবর্তন করে না, বরং দেশের সাধারণ মানুষকে অপমানও করে।”
তারেক রহমান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নাম না নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “দুই দিন আগে এই ‘গুপ্ত’ দলের প্রধান নেতা বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কলঙ্কিত মন্তব্য করেছেন। যারা আমাদের মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছ থেকে দেশ ও জাতি ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারে না। নির্বাচনের আগে এরা ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যাচার করছে।”
ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘বিভাগ’ ও ‘সিটি কর্পোরেশন’ প্রসঙ্গে তারেক রহমান ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি যদি সরকার গঠন করে এবং বিভাগ গঠন করলে যদি সাধারণ মানুষের প্রকৃত উপকার হয়, তবে ইনশাআল্লাহ জনগণের এই দাবি পূরণ করা হবে।” বিগত সরকারের উন্নয়নের দাবির সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি চারদিকে উন্নয়নই হয়ে থাকে, তবে আজ প্রার্থীরা কেন এত সমস্যার কথা বলছেন? আসলে গত ১৭ বছর উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে।”
ফরিদপুরের আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “এ এলাকার প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। পাট চাষি ও ভুট্টা চাষিদের ভাগ্যোন্নয়নে সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হবে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এই অঞ্চলে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের সাহসী উদ্যোগ নেবে বিএনপি।” শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কলকারখানা তৈরির পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফরিদপুর 













