আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৪১ দফার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার তুলে ধরা হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপকে প্রাধান্য দিয়ে এই রূপরেখা সাজিয়েছে দলটি।
জামায়াতের ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। ইশতেহারে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদনের সুযোগসহ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশ অবক্ষয়, বর্জ্য ও বন্যা-ঝুঁকি শূন্যতা) ঘোষণা করেছে দলটি।
নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে জামায়াত ‘সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি’ প্রবর্তন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়নে রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব কমিয়ে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির।
ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, জামায়াত ‘মেজরিটি-মাইনরিটি’ বিভাজনে বিশ্বাসী নয়; বরং সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রদানের অঙ্গীকারও করা হয়েছে। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


























